ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে যদি চান

তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে বাংলাদেশের মতো অপেক্ষাকৃত স্বল্প বেতনের শ্রমবাজারের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই বিশ্বব্যাপী কাজের ক্ষেত্র। বিশ্ব জুড়েই অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সম্ভাবনাময় এ কর্মক্ষেত্র নিয়ে লিখেছেন শিবলী জামান

ফ্রিল্যান্সিং কী

ফ্রিল্যান্সার বলতে এমন এক মুক্ত পেশাজীবীকে বোঝায়, যিনি কোনো বেতনের ভিত্তিতে নয়, বরং চুক্তিভিত্তিক কাজে নিয়োজিত হন। তবে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার বলতে এমন পেশাজীবীদের বোঝায়, যারা মূলত অনলাইনে দেশের বা দেশের বাইরে প্রতিষ্ঠানের এমন কাজ করেন, যা দূর থেকেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে করা সম্ভব। তারা ঘরে বসে অনলাইনে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজের চুক্তি করেন এবং কাজ শেষ করে অনলাইনেই ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে আয় করেন। এই কর্মপদ্ধতিকেই বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুবিধা-অসুবিধা

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এখানে কাজের ক্ষেত্রে বাঁধাধরা নিয়ম নেই। ঘড়ির কাঁটা ধরে নয়টা-পাঁচটা অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। এখানে কাজটি ক্লায়েন্টের মর্জিমাফিক এবং সময়মতো করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর তার জন্য হাঁকা যায় নিজের ইচ্ছামতো পারিশ্রমিক। নিজের শ্রমের মূল্য নিজেই নির্ধারণ করতে পারাটাও ফ্রিল্যান্সিংয়ের একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বাঁধা থাকতে হয় না বলে যত ইচ্ছা কাজ করা যায়। অফিসের জন্য বাড়তি ব্যয় হয় না। দরকার হয় না কোনো অর্থ বিনিয়োগের। এত সুবিধার ফ্রিল্যান্সিংয়ে কিছু অসুবিধাও আছে। এখানে কাজের কোনো নিরাপত্তা বা গ্যারান্টি নেই। আপনি সারা মাসে কোনো কাজ নাও পেতে পারেন। আবার এমন হতে পারে যে, এত বেশি কাজ পেলেন যে, কিছু কাজ ছেড়ে দিতে হলো। ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি আমাদের সমাজে এখনো যথেষ্ট সম্মানজনক মনে করা হয় না। সন্দেহ নেই, অজ্ঞানতাই এর কারণ।

কারা করতে পারবেন

যারা কমপক্ষে একটি কাজে দক্ষ, যাদের কাজ শেখার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে, যারা নতুন মাধ্যমে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন না, ফ্রিল্যান্সিংয়ে তারা ভালো করবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমিউনিকেশন করতে হয় বলে একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং কোর্স

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোনো ধরনের কোর্স করা অত্যাবশ্যকীয় নয়। প্রয়োজন কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা। সেটি থাকলে আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা, পোর্টফোলিও সাজানো, জব অ্যাপ্লাইয়ের নিয়ম প্রভৃতি বিষয় আপনি অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগ ও ইউটিউব থেকে শিখে নিতে পারবেন। আপনার যদি কোনো বিষয়ে দক্ষতা না থাকে, তাহলে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সেই বিষয়ে কোর্স করে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। মার্কেটপ্লেসে ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও কনটেন্ট রাইটিং প্রভৃতি বিষয়ে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

লক্ষ্য ঠিক করে নিন

ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার প্রথম ধাপে ঠিক করে নিতে হবে আপনি ফুলটাইম কাজ করবেন নাকি চাকরি বা অন্যান্য পেশার পাশাপাশি পার্টটাইম ফ্রিল্যান্সিং করবেন। চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে আপনাকে নির্ধারিত কিছু সময় বের করে নিতে হবে, ক্লায়েন্ট যেন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

ক্ষেত্র ঠিক করে নিন

কোন বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করবেন তা ঠিক করে নিন। যে বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আছে, সেটিকেই কাজের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিন। যদি কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞ না হন তাহলে যে বিষয়ে আগ্রহী সেটিতে দক্ষতা অর্জন করে কাজের ক্ষেত্র হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন।

সাইট ঠিক করে নিন

অনলাইনে অনেক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ক্লায়েন্ট) তাদের কাজ করানোর জন্য ফ্রিল্যান্সারদের খোঁজে। সে ধরনের একটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসকে কাজের জন্য বেছে নিন। কারণ জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে বেশি ক্লায়েন্ট থাকে তাই বেশি কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কাজের শুরুতেই একটি বা দুটি মার্কেটপ্লেস ঠিক করে নিন, যেখানে আপনি আপনার সময় ও মনোযোগ দেবেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে কাজের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা ও কাজের কোয়ালিটি মেনটেন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটপ্লেসে আপনার সুনামের ওপরই নির্ভর করে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সফলতা।