যমুনায় বিলীন বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে বিদ্যালয়

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অসময়ে যমুনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এক মাসের ভাঙনে অর্ধশত বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসা। জিও ব্যাগ ফেলেও বাঁচানো যাচ্ছে না স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ-বসতবাড়ি। ভাঙনরোধে স্থায়ী প্রকল্পের জন্য কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের চর ডাকাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে পড়েছে। বিদ্যালয়ের ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। সেখানে অস্থায়ী ছাপড়া তুলে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা আক্তার সিদ্দিকা জানান, বিদ্যালয়ের দুটি ভবন ছিল। ইতিমধ্যে একটি ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরেকটি ভবন নদীর সন্নিকটে। গত ২৪ এপ্রিল ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাঘাত ঘটছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় জানায়, একটি ভবন ভাঙনের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। নতুন জায়গা খোঁজা হচ্ছে। দ্রুত অস্থায়ী ঘর করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আহসান বলেন, ভাঙনকবলিত স্কুলে পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য অস্থায়ী নিরাপদ এলাকায় জায়গা খুঁজে স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা জানায়, যমুনা নদীর বাম তীরে ভাঙনের খবর নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ভাঙনের কবলে হারিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম, বাস্তুচ্যুত হয়েছে হিসাবের বাইরে মানুষ। এবার অসময়ের তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে গেছে অর্ধশত বসতবাড়িসহ ফসলি জমি। ভাঙনের মুখে এখন রয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, আবাদি জমি, চরডাকাতিয়া জামে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে নদী থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে রয়েছে চরডাকাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরডাকাতিয়া জামে মসজিদ। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। জরুরিভাবে কিছু জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হলেও তা টিকেনি। ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

চরডাকাতিয়া এলাকার বাসিন্দা সালমান হোসেন বলেন, ২০১১ সাল থেকে উপজেলার খোলাবাড়ি, হাজারী, মাগুরিহাট, খানপাড়া, মাঝিপাড়াসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম নদীগর্ভে চলে গেছে। কিন্তু এখনো কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

চরডাকাতিয়া এলাকার আফরোজা বেগম বলেন, ‘অসময়ে চরডাকাতিয়া গ্রামে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এ বছরেই সব গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের মাত্রা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে চরডাকাতিয়া গ্রাম। ভিটামাটি, আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে হাজারও মানুষ। অসময়ের ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। আমাদের রাত কাটে নির্ঘুম। বসতভিটা ভেঙে নিলে আমাদের মাথাগোঁজার জায়গা থাকবে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে দাঁড়াতে হবে।’

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘পানি বৃদ্ধি পেলে ও কমতে থাকলে নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। এখন নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধি ও কালবৈশাখী বাতাসে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরিভাবে ৬৭ মিটার জায়গায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। আরও ৩০০ মিটার জায়গায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। ভাঙনরোধে স্থায়ী প্রকল্পের জন্য সমীক্ষা চলমান রয়েছে। পরে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’