আলী রীয়াজের আশা

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দলগুলো ছাড় দেবে

জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রেখেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। গতকাল শনিবার ভবনের এলডি হলে কমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট (এনপিপি)- এর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপের শুরুতে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দেবে বলে আমরা আশা করি।’

আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ১১২টিতে একমত, ২৬টিতে ভিন্নমত এবং ২৮টিতে আংশিক একমত থাকার কথা জানায় এনপিপি। জোটের চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়।

ফরিদুজ্জামান বলেন, ‘একটি অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে তা নানা সমস্যার জন্ম দেয়। তাই আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকার এমন এক ভোটের ব্যবস্থা করবে যেখানে জনগণ অবাধে ভোট দিতে পারবে, এবং সে ভোটে কেউ টাকা বা জোর খাটিয়ে প্রভাব ফেলতে পারবে না।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে ফরিদুজ্জামান বলেন,  ‘আমরা ওনার কাছে এটাই আশা করি যে, আপনি এমন একটা ভোটের ব্যবস্থা করে দেন যাতে মানুষ বলতে পারে দীর্ঘ পনেরো বছর পর আমরা এমন একটা ভোট দেখতে পেরেছি। আমার ভোটের প্রতি কেউ জোর করতে পারেনি, আমার ভোট কেউ টাকা দিয়ে কিনতে পারেনি, আমি আমার ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে সরকার গঠন করতে পেরেছি।’

আলোচনার শুরুতেই আলী রীয়াজ বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় সনদের খসড়া প্রস্তুত করা, যাতে সব রাজনৈতিক পক্ষের মতামত প্রতিফলিত হয়। বিভিন্ন দল তাদের ভিন্ন আদর্শ থেকে মতামত দিয়েছে। তবে আমরা আশা করি, জাতীয় স্বার্থে সবাই কিছুটা ছাড় দিতে প্রস্তুত থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত জুলাইয়ে যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।’

রাষ্ট্র গঠনে যৌথ দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে যদি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই, তবে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার যে মৌলিক কাঠামো, সেখানে ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি।’

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফররাজ হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি।

আলোচনায় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ডা. সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম এন শাওন সাদিকী, কারি আবু তাহেরসহ প্রমুখ।

প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট মতামত জানাতে অনুরোধ করে সুপারিশগুলো স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩৫টি দলের কাছ থেকে মতামত পেয়েছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এ পর্যন্ত ২২টি রাজনৈতিক দল কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছে।