চিকিৎসার ব্যয়ে বছরে গরিব হচ্ছে ৫০ লাখ মানুষ

বাংলাদেশে প্রতিবছর চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে ৫০ লাখের বেশি মানুষ গরিব হয়ে যাচ্ছে। এসব রোগীদের একটি অংশ ভিক্ষা করে, একটি অংশ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে এবং একটি অংশ গ্রামের ধনীদের থেকে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদে টাকা এনে চিকিৎসা ব্যয় বহন করছে। চিকিৎসকদের রোগীদের ব্যয় কমানোর ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া দরকার।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনসের (বিএসএনএস) তিন দিনব্যাপী চতুর্থ অন্তর্বর্তী সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম এসব কথা বলেন। রোগীদের ব্যয়ভার কমানের পরামর্শ দিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘ব্যয়ভার কমানোর জন্য প্রথমে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত। তবে আমরা চিকিৎসকরা রোগীদের ব্যয়ভার কমাতে পারি।’ নিউরোসার্জারির ক্ষেত্রে রোগীদের ব্যয় কমানোর ব্যাপারে এই চিকিৎসক বলেন, ‘নিউরোসার্জারিতে এন্ডোস্কপির মাধ্যমে কিছু সার্জারি করা হয়। গাইডলাইন ফলো করলে রোগীদের ব্যয় কমে। উন্নত দেশে অনেক যন্ত্রপাতি একবার ব্যবহার হয়। আমাদের দেশের জন্য এসব যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করে অনেকবার ব্যবহার করেও ব্যয় কমানো যায়।’

উপাচার্য আরও বলেন, এন্ডোস্কপির মাধ্যমে সার্জনরা যে এন্ডোভাস্কুলার সার্জারি করে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। এসব ডিভাইস বিভিন্ন হাত ঘুরতে ঘুরতে দাম বেড়ে যাচ্ছে। ডিভাইসগুলোর দাম কমানোর জন্য একটি ইথিক্যাল পদ্ধতি আছে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, এন্ডোস্কপি বা অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যারা জড়িত তারা এ ধরনের কোনো ডিভাইস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে পারবে না। যদি কোনো রোগীকে প্রয়োজনে সরবরাহ করা লাগে, সেটা হতে হবে অলাভজনক।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, মেডিকেল অডিট পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ ও চিকিৎসা ব্যয় কমানোর কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিএমইউতে বিভিন্ন বিভাগে অডিট শুরু হয়েছে।

সম্মেলনে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন বলেন, দেশের চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন এবং চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও নিউরোসার্জারিসহ নানা খাতে চিকিৎসকরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এখন পিছিয়ে থাকলেও নিউরো অ্যান্ড স্পেইন সার্জারিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের চিকিৎসা শিক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা উন্নত করার জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আশা করি, একসময় দেশের চিকিৎসা খাত আধুনিক হবে এবং মানুষের আস্থা-ভরসায় পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক, সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সভা বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. মাঈনুল হক সরকারসহ দেশি-বিদেশি ৩০০ জনের অধিক নিউরোসার্জন উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বৈজ্ঞানিক সম্মেলন, লাইভ সার্জারি, থ্রিডি অ্যানাটমি সেশন এবং এন্ডোভাস্কুলার সিমুলেশন ইত্যাদি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।