গাজীপুর নগরে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস সংলগ্ন বাসন সড়ক বেলমন্ট শোরুমের পূর্ব পাশে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গাজীপুর নগরের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখনো ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারিনি। আমরা কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।’
হাসনাতের ওপর হামলার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাজীপুর জেলার যুগ্ম-আহ্বায়ক সানিউল আলম নাবিল বলেন, উনি যে এদিকে আসবেন আমরা এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। গাজীপুরে তার কোনো পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিল না। তবে এনসিপির গাজীপুরের কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি জানেন কি না তা আমরা জানি না।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রবিউল হাসান জানান, গাজীপুরের সালনার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তার গাড়ি বহর জ্যামে আটকে থাকাবস্থায় ৪/৫টি মোটরসাইকেলে থাকা লোক তার গাড়িতে হামলা করে। হামলায় তিনি হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং গাড়ির গ্লাস ও উইন্ডশিল্ড ভেঙে যায়। পরে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে তাকে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ গাজীপুরের শিমুলতলীতে একটি গলফ ক্লাবে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। ফিশারি বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম সাদিক আব্দুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকে তাকে ভেতরে নিয়ে যান। হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘুরে দেখেন। পরে তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর পাশের প্রধান ফটক দিয়ে মাইক্রোবাসযোগে বের হয়ে যান।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে হাসনাত আব্দুল্লাহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন বিষয়টি তাদের আগে জানা ছিল না। সেখানে তাদের কোনো প্রোগ্রামও ছিল না।
এদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলার কথা জানিয়ে এনসিপির একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হাসনাতের গাড়িতে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী গাজীপুর এলাকায় হামলা করেছে। গাড়ির গ্লাস ভেঙে গেছে, হাত রক্তাক্ত হয়েছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ লিখেছেন, ‘গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় হাসনাত আব্দুল্লাহ ভাইয়ের গাড়িতে হামলা হয়েছে।’ হাসনাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি গিয়েছিলেন, কারাই বা হামলা করেছে তাৎক্ষণিক তা জানা যায়নি।
হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলার পর তার গাড়িটি দ্রুত গাজীপুরের বোর্ডবাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)’র সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এবং এনসিপির নেতারা জড়ো হন। কিছুক্ষণ আইইউটিতে অবস্থান করে পুলিশ প্রহরায় হাসনাত আব্দুল্লাহ ঢাকার দিকে চলে যান।
এদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সন্ত্রাসী হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা আইইউটি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
রাত ৯টার দিকে নেতাকর্মীরা চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এখানে বিক্ষোভ সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা এ হামলার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবির গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি রেজাউল ইসলাম, ছাত্র সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মহিম, মহসিন, ফাহিম, মোকারিম বিল্লাহ, রোকন প্রমুখ।
এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিন খান জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।