নারীদের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ট্রান্সজেন্ডাররা

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এখন থেকে নারীদের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না ট্রান্সজেন্ডার নারীরা। শুক্রবার ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) নতুন একটি নীতিমালা অনুমোদন করেছে, যা দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছে।

এখন থেকে শুধুমাত্র জৈবিকভাবে নারী এমন খেলোয়াড়রাই নারী ও বালিকাদের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে ট্রান্সজেন্ডার নারী ও বালিকারা মিশ্র ও উন্মুক্ত ক্রিকেটে খেলতে পারবেন বলে জানিয়েছে ইসিবি।

এর আগে ২০২৪ সালের শুরু থেকেই প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের এলিট নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল। তবে তৃতীয় স্তরের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা এবং সকল পর্যায়ের শৌখিন ক্রিকেটে তাদের খেলার অনুমতি ছিল, যা এবার সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো।

ইসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমাদের রিক্রিয়েশনাল ক্রিকেট নীতিমালায় সবসময়ই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আইনি ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে আমরা মনে করছি, আজকের সিদ্ধান্ত সময়োচিত এবং প্রয়োজনীয়।’

এই সিদ্ধান্তটি এসেছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাজ্যের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) নারী ফুটবলেও ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ২০১০ সালের সমতা আইন–এর ১৯৫ ধারা ব্যাখ্যা করে বলেছিল, লিঙ্গ-নির্ভর খেলাধুলা থেকে কাউকে বৈধভাবে বাদ দেওয়ার ভিত্তি হতে পারে একজন ব্যক্তির জৈবিক লিঙ্গ।

ইসিবি আরও বলেছে, ‘আমরা স্বীকার করছি এই সিদ্ধান্তে অনেক ট্রান্সজেন্ডার নারী ও কিশোরী প্রভাবিত হবেন। আমরা তাদের পাশে থাকব এবং স্থানীয় ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করব। তবে খেলাধুলায় অসম্মান বা বৈষম্যের কোনো স্থান নেই—এটা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এখন ক্রিকেট ছাড়াও পুল ও নেটবলসহ অন্যান্য ক্রীড়াও এই রায়ের প্রভাবে নীতিমালা পর্যালোচনা করছে।