পরিসংখ্যান দেশে ফ্যাসাদ ছাড়া কিছুই করছে না

দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় তৈরি করা পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, পরিসংখ্যান দেশে ফ্যাসাদ ছাড়া কিছুই করছে না। যা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধান্বিত করে ফেলছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা আয়োজিত কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাণ প্রকৃতি সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশনে বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, গ্রুপ করপোরেট অ্যান্ড লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক এস সাফির রহমান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার, পারভেজ সাইফুল ইসলাম।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত বছর দেশে আলু উৎপাদন ছিল এক কোটি টনের বেশি। কিন্তু সেই আলুর দাম আবার ৯০ টাকা কেজির উপরে উঠেছিল। হঠাৎ পরিসংখ্যান মিলছে না। তথ্য-উপাত্ত সঠিক না থাকা মারাত্মক ফ্যাসাদ তৈরি হচ্ছে। যা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধান্বিত করে ফেলছে।

তিনি বলেন, কবে দেশের এই পরিসংখ্যান ঠিক হবে তা আমার জানা নেই। কারণ এটা আমার আওতার মধ্যে নেই।

অন্য এক অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশের কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। স্বাধীনতার পর আমাদের খাদ্য শস্য উৎপাদন ছিল ১ কোটি টন, যা এখন ৫ কোটি টন ছাড়িয়েছে।

দেশে বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন।

ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশের কৃষি খাতে মোট উৎপাদন ৩ হারে বেড়েছে, যেখানে সারা বিশ্বে ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। উৎপাদনের দিক থেকে আমরা যথেষ্ট এগিয়েছি। কিন্তু তারপরও আমাদের খাদ্য সংকট আছে, সমস্যা আছে। প্রতি বছর আমাদেরকে ১ কোটি টনের বেশি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হয়। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছি বলা হয়ে থাকে। এটা কথার কথা, অনেকটা রাজনৈতিক এর কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সেটি নিয়ন্ত্রণে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া কোনো উপায় নেই। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে হলে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু প্রবৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে কৃষিতে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। টাকার অঙ্কে সরকারের বরাদ্দ বাড়লে সেটি আনুপাতিক হারে কমে যাচ্ছে। কৃষিতে ভর্তুকিও কমে গেছে।

কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিয়ে পোল্ট্রি খাতকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। এ খাতে সিন্ডিকেটের কথা বলা হলেও ব্যস্তবে সেটা নেই। এসব ক্ষেত্রে কিছু ভুলবোঝাবুঝি তৈরি করা হচ্ছে। সৎ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিমুখ করা হচ্ছে। এটি একটি চক্রান্ত। সরকারকে এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান করেন এ ব্যবসায়ী।