লাভের আশায় বাজারে অপরিপক্ব লিচু

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মৌসুমের আগেই উঠতে শুরু করেছে লিচু। এসব লিচুর বেশিরভাগই অপরিপক্ব। ক্রেতারা বলছেন, অপরিপক্ব এসব লিচুতে তেমন স্বাদ না থাকলেও তা চড়া দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতারা বলেছেন, বাগান  থেকে বেশি দামে পাইকারি কেনায় বেশি দামেই খুচরা বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে গত ২ ও ৩ মে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ও উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে সবুজ ও হালকা লাল রঙের লিচু বিক্রি হচ্ছে। বছরের নতুন ফল হিসেবে অনেক ক্রেতার নজরই লিচুর দিকে। ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। ভরা মৌসুমের লিচুর তুলনায় এগুলো আকারে ছোট। আকারে একটু বড় হলেই দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অনেক ক্রেতাই শিশুদের আবদার মেটাতে এসব লিচু কিনছেন বলে জানান।

বিক্রেতারা বলছেন, তারা আগে থেকেই বাগান কিনে রেখেছেন, তবে বাগানমালিকদের পুরো টাকা পরিশোধ করেননি। মালিকদের পাওনা পরিশোধের চিন্তা এবং ঝড়বৃষ্টি হলে লিচুর ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তারা আগেভাগেই লিচু বিক্রি করছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া গ্রামের মুজিবুর রহমান পৌর বাজারের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকানে লিচু বিক্রি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘এখন যেসব লিচু বাজারে আছে সেগুলো পুরোপুরি মিষ্টি না। কিছুটা টক-মিষ্টি স্বাদের। মিষ্টি লিচু আরও ১-২ সপ্তাহ পরে আসবে। কিন্তু লিচু গাছমালিক ও বাগানমালিকদের পাওনা পরিশোধ করতে লিচু পেড়ে বিক্রি করছেন অনেকে। আমি একটি লিচুগাছ কিনেছি সাড়ে ৫ হাজার টাকায়। গাছের সব লিচু খুচরা হিসেবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব। এতে খরচ বাদে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা লাভ হবে।’

উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে আমি দুই খাঁচা লিচু নিয়ে এসেছি। চাহিদা আছে মোটামুটি ভালোই। ১০০ লিচু ২০০ টাকা করে বিক্রি করা যাচ্ছে। কমপক্ষে এক সপ্তাহ পর আরও ভালো লিচু বিক্রি করতে পারব। সেগুলোর রঙ টকটকে থাকবে এবং স্বাদও মিষ্টি হবে।’

 পৌর এলাকার পাইভাকুরী গ্রামের ইদ্রিস আলী (৫৫) বলেন, ‘এখন কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছে। এই ভয়েও অনেক পাইকার লিচু বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন। দাম বেশি পাওয়ায় লাভও বেশি হচ্ছে। এতে মৌসুম শেষে লোকসানের সম্ভাবনা থাকবে না।’

পৌর বাজারে লিচু কিনতে আসা রোখসানা পারভীন রূপা বলেন, ‘আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাব। তাই এসেছি নতুন ফল কিনতে। অন্যান্য কিছু ফল নিয়েছি আর সঙ্গে লিচুও নিয়ে নিলাম। তবে লিচুগুলো এখনো পরিপক্ব হয়নি বুঝেও নিলাম। ১০০ লিচু কিনলাম ২০০ টাকা দিয়ে।’ আরেক ক্রেতা নূর মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘বাসায় বাচ্চারা লিচুর কথা বলেছে। তাই দেড়শ লিচু নিলাম। যদিও লিচুগুলো টক লাগল কিন্তু বাচ্চাদের জন্য শখ করে নিলাম।’

অপরিপক্ব ফলের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অপরিপক্ব কোনো ফলই খাওয়া উচিত নয়। লিচুর ক্ষেত্রে তো আরও সতর্ক থাকতে হবে, লিচু একটি সেনসিটিভ ফল। অপরিপক্ব লিচু অনেক সময় মেডিসিন দিয়ে পাকানো হয়। এসব ফল খাওয়ার ফলে পেটে খিঁচুনি বা ব্যথা হতে পারে। এমনকি এতে ক্যানসারের ঝুঁকিও থাকে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান বলেন, ‘অনেক বাগানের লিচু এখনো পুরোপুরি পাকেনি। লিচু পরিপক্ব হতে আরও এক-দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। আমরা বাগানমালিক ও পাইকারদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে থাকি যেন কোনো ফল পরিপক্ব হলেই তারা বিক্রি করেন।