বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন এবং তার স্ত্রী রোকসানা হাসানের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া পাপনের ব্যাংক হিসাবে ৭৯২ কোটি ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৯৬ টাকা সন্দেহভাজন লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে আসার পরই তাদের বিরুদ্ধে আলাদা তিনটি মামলা করে দুদক। একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় পাপনের ছেলে রাফসান রহমান, মেয়ে রুশমিলা রহমান (অহনা), মেয়ে সুনেহরা রহমান (তন্নি) ও তার জামাতা রাকিন আল মাহমুদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সম্পদের নোটিস জারি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক মন্ত্রী পাপন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ২০ কোটি ৭ লাখ ৪১ হাজার ১২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখা এবং তার ২০টি ব্যাংক হিসাবে ৭৪২ কোটি ৭৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮৬ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়।
রোকসানা হাসান তার স্বামী পাপনের প্রভাব খাটিয়ে ১২ কোটি ১২ হাজার ২১৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখা এবং তার ১১টি ব্যাংক হিসাবে ৪৯ কোটি ৩২ লাখ ৫৫ হাজার ১১০ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হয়।
এ ছাড়া পাপনের ঘনিষ্ঠজন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তার আটটি ব্যাংক হিসাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৭০১ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, পাপন দম্পতির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানকালে পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য পেয়ে তাদের সম্পদ হিসাবে দুদকে দাখিলের জন্য নোটিস জারির সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন পাপনের কন্যা রুশমিলা রহমান (অহনা), ছেলে রাফসান রহমান, কন্যা সুনেহরা রহমান (তন্নি) ও তার জামাতা রাকিন আল মাহমুদ এবং ইসমাইল হায়দার মল্লিকের স্ত্রী সুলতানা নিঝুম।