কানাডা কখনোই বিক্রির জন্য নয় : কার্নি

ট্রাম্প ও বিতর্ক যেন সমার্থক শব্দ। দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে তেমন বেশ কিছু মন্তব্যে সেটি আবার দৃশ্যপটে নিয়ে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার মধ্যে অন্যতম কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হিসেবে যুক্ত করার ঘোষণা। তবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে কানাডার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন, কানাডা কখনোই বিক্রির জন্য নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হওয়ার সুবিধাগুলো নতুন করে কার্নির সামনে তুলে ধরলে তার জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ট্রাম্পকে কার্নি বলেন, যেমন আপনি জানেন রিয়েল এস্টেটে কিছু জায়গা আছে, যেগুলো বিক্রির জন্য নয়। কানাডাও বিক্রির জন্য নয়। এটি কখনোই বিক্রি করা হবে না। তবে অংশীদারত্বের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা আছে এবং আমরা একসঙ্গে তা গড়ে তুলতে পারি। অতীতেও আমরা সেটি করেছি। জবাবে ট্রাম্প বলেন, কখনো কথাটি কখনোই বলবেন না। সময়ই বলে দেবে। এটি শুধুই সময়ের ব্যাপার। ট্রাম্পের কানাডা দখলের হুমকি ও বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে মঙ্গলবার দুই দেশের নেতা মুখোমুখি এই বৈঠক করলেন। হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে বৈঠক শেষে উভয় নেতাই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান।

ট্রাম্পবিরোধী বার্তা দিয়ে কানাডার নির্বাচনে মার্ক কার্নির জয়ের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক। কানাডায় এবারের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কার্নির লিবারেল দলের জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান। ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কা সামলাতে এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর হুমকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নির্বাচনের আগে জাতির কাছে শক্তিশালী ম্যান্ডেট চেয়েছিলেন। এরপর নির্বাচনে জয় ঘোষণার পরই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কড়া ভাষণ দিয়েছিলেন কার্নি। বলেছিলেন, তার দেশ কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ইতিমধ্যে কানাডার ওপর বাড়তি শুল্ক চাপানোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অবনতির পথে। তার মধ্যেই ট্রাম্পের কানাডা দখলের হুমকি দেশটির নাগরিকরা ভালোভাবে নেননি।