ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ করায় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর থেকে গাজার সমর্থনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় হওয়া বিক্ষোভের মধ্যে গত বুধবারের এই আন্দোলন ছিল বৃহত্তম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, মুখোশ পরিহিত বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল পাঠাগারে লরেন্স এ. ওয়েইন রিডিং রুমে টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে ঢোল পেটাচ্ছেন। সে সময় তাদের কাছে ছিল ‘গাজার জন্য ধর্মঘট’ এবং ‘মুক্ত এলাকা’ সেøাগানসংবলিত ব্যানার। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে তাদের দুজন কর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে তারা নিউ ইয়র্ক পুলিশকে ফোন দেয়।
কর্র্তৃপক্ষের অনুরোধে সদলবলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কর্র্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, পাঠাগারের তৃতীয়তলার প্রধান পাঠকক্ষ তারা আটকে রেখেছেন। তাদের কাজ অবৈধ অনুপ্রবেশের তালিকায় ফেলেছে কর্র্তৃপক্ষ। ছয়তলা ভবনে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। পাঠাগার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানো শিক্ষার্থীদের জোর করে বের করে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে হাত বেঁধে অন্তত ৭০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে গেছে পুলিশ।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নিয়ে গত বছর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, এসব বিক্ষোভ মূলত ইহুদিবিদ্বেষপ্রসূত এবং কর্র্তৃপক্ষ তার ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে।