কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া উত্তেজনা দুই সপ্তাহ পর পাল্টাপাল্টি হামলায় গড়িয়েছে। গত ২২ এপ্রিল পেহেলগামের ওই ঘটনার পর সীমান্তে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি চললেও গত বুধবার প্রথম প্রহরে ভারত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে বসে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়। ওইদিন পাকিস্তানও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাল্টা হামলা চালায়। দুদেশেই অর্ধশত মানুষ নিহত হয়েছে। পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্য শুরু হওয়া নতুন এ সংঘাত চমকে দিয়েছে বিশ্বকে। বিশ্বনেতারা দুই দেশের প্রতিই সংযম ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো কোনো দেশ ভারত-পাকিস্তানকে আলোচনার টেবিলে বসানোরও উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু বুধবারের ওই ঘটনার পর দৃশ্যমান ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। উল্টো গতকাল বিচ্ছিন্নভাবে ভারত থেকে পাকিস্তানে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর চলবে। পাকিস্তান অবশ্য গত ভারতের বেশিরভাগ ড্রোন প্রতিরোধের দাবি করেছে। পাশাপাশি সীমান্তে ৪০ থেকে ৫০ জন ভারতীয় সেনাকে হত্যার দাবি করেছে। এ ছাড়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নতুন করে রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অবশ্য উদ্বেগের মধ্যে আশার কথা, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছিকে জানিয়েছেন, তার দেশ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে আগ্রহী নয়। তবে পাকিস্তান সামরিক আক্রমণ করলে ভারত তার যোগ্য জবাব দেবে।
এ ছাড়া নয়াদিল্লি বলছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে সীমান্তের ওপারে, অর্থাৎ পাকিস্তানে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং এ হামলা করতে গিয়ে ‘ব্যাপক সংযম’ দেখিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, এই আক্রমণের ধরন এমন ছিল যে, তাতে উত্তেজনা বাড়ার কোনো কারণ আশঙ্কানেই। আর তারা সচেতনভাবেই পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলো নিশানা করেনি।
অন্যদিকে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা ইসলামাবাদ বলেছে, ভারতের হামলায় অন্তত ৩১ জনের প্রাণ গেছে, তারা সবাই বেসামরিক নাগরিক, তাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। পাকিস্তানের বিমানবাহিনী ভারতের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করেছেন পাকিস্তানি মন্ত্রীরা। একই সঙ্গে তাদের দাবি, কাশ্মীর সীমান্তে তাদের সেনা ৪০ থেকে ৫০ জন ভারতীয় সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে। অবশ্য এ দাবির বিষয়ে ভারত এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তরফ থেকেও কিছু বলা হয়নি বিষয়টি নিয়ে।
ভারত এ হামলার পরিকল্পনা সাজিয়েছে গত ২২ এপ্রিল তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার বদলা নিতে। ওই ঘটনায় ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করা হয়। নিহতরা সবাই পুরুষ, ধর্ম জিজ্ঞেস করে করে তাদের গুলি করা হয়।
পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডে বিধবা হওয়া নারীদের কথা মাথায় রেখেই ভারতীয় বাহিনীর এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। অভিযানের নামটি দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে দায়ী করে আসছে। ভারতীয় পুলিশের দাবি, হামলায় জড়িতদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি নাগরিক। অন্যদিকে পাকিস্তান বলে আসছে, ওই হামলায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
ভারতীয় সেনারা ২২ এপ্রিলের পর থেকেই পেহেলগামের অরণ্যে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে। কিন্তু হামলাকারীদের খোঁজ এখনো মেলেনি।
বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে লিখেছে, পেহেলগামের জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চালানো হামলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দৃঢ় নেতার’ ভাবমূর্তি দেশের ভেতরে আরও উজ্জ্বল করতে পারে।
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতির ওই ‘সংযম’ শব্দটি থেকে মনে হয়, মোদি দেশের ভেতরে নিজেকে একভাবে উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দিতে চাইছেন ভিন্ন বার্তা। একটি বিষয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই, তাদের সবারই বিশ্বাস, পাকিস্তানে ভারতের হামলা এ অঞ্চলে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
‘১৯৭১ সালের সর্বাত্মক যুদ্ধের পর এবারই সবচেয়ে বিস্তৃত পরিসরে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে ভারত। তবে সে সময় এ দুই প্রতিবেশীর কারও হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না, এখন যেমন আছে।
ভারতের হামলার ৯টি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে দুটি ছিল পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শহর মুজাফফরাবাদ ও কোটলি।
ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই কাশ্মীর অঞ্চলকে সম্পূর্ণ নিজেদের বলে দাবি করে। কাশ্মীরের দুই অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দুই দেশের হাতে। এই অঞ্চল নিয়ে এর আগে তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে তারা।
বুধবারের হামলায় ভারতের আরও চারটি লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, শিয়ালকোট ও শাকরগড়। এর মধ্যে বাহাওয়ালপুর পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাবে থার মরুভূমির লাগোয়া আর মুরিদকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের পাশে, যার জনসংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি।
১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের আবাসস্থল পাঞ্জাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই প্রথমবার হামলা চালাল।
এর আগে আকাশপথে ভারতের হামলা সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চল বা পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। ছয় বছর আগে কাশ্মীরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ৪০ জন জওয়ান নিহত হলে ভারতীয় যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া বালাকোটে মিসাইল ছুড়েছিল।
তবে বুধবারের হামলার ধরন অনেকটাই ভিন্ন ছিল বলে মনে করেন দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয়তাবাদ ও সংঘাত বিষয়ে কাজ করা ভারতীয় রাজনীতি বিশ্লেষক সুমন্ত্র বোস।
তিনি বলছেন, মুরিদকের পাশের শহর লাহোর ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি এবং পাকিস্তানের দ্বিতীয় জনবহুল শহর। বাহাওয়ালপুরও দক্ষিণ পাঞ্জাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।
ভারত সরকার দাবি করছে, শুধু ‘সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো’ নিশানা করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মোহাম্মদের এবং মুরিদকেতে লস্কর-ই-তৈয়বার সদর দপ্তর রয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এক এক্স পোস্টে লিখেছে, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে’। তবে সুমন্ত্র বোস এ হামলাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলেই মনে করছেন। তিনি বলেন, ভারত যতই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত নিশানার কথা বলুক, বাস্তবতা হচ্ছে, এবার হামলা চালানো হয়েছে পাকিস্তানের জনবহুল শহরগুলোয়ত। আর হামলাটা হয়েছে পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে, পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নয়।
ভারতীয় হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ হিসেবে বর্ণনা করে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে জবাব দেওয়া শুরু করেছে।
ভারতশাসিত কাশ্মীরের কর্র্তৃপক্ষ জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বলেছে। তাদের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলেছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জম্মু, সাম্বা, কাঠুয়া, রাজৌরি ও পুঞ্চ এলাকায় বুধবার সব স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আর পাকিস্তানে রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে দুই দেশেই কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। বহু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো সামরিক সংঘাতের ভার বিশ্ব বহন করতে পারবে না।
এদিকে পেহেলগাম হামলার দুদিন পর বিহারে এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষণা দেন, তার সরকার প্রত্যেক জঙ্গি এবং তাদের সহযোগীকে শনাক্ত করে শাস্তি দেবে এবং প্রয়োজনে ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্তে গিয়ে’ তাদের খুঁজে বের করবে। ওই হামলার পর পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি ভারত স্থগিত করে। জবাবে ইসলামাবাদ সিমলা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেয়। দুই দেশই একে অন্যের কূটনীতিক, সামরিক প্রতিনিধি ও শত শত বেসামরিক নাগরিককে বহিষ্কার করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপের পরও পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছিল ভারত সরকারের ওপর। ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ভারতের সামরিক শক্তি দেখানোর চাপ তৈরি হয়েছিল মোদির ওপর। তিনি নিজেকে এমন একজন শাসক হিসেবে উপস্থাপন করেন, যিনি দৃঢ়চেতা, আত্মবিশ্বাসী এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিশোধে বিশ্বাসী। ফলে সামরিক ভাষায় পাকিস্তানকে জবাব না দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ছিল না।
নয়াদিল্লিভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াই বলেন, পেহেলগাম হামলা ভারতীয়দের আবেগে ধাক্কা দিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করেছে। আর জাতীয় নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার দেওয়া একজন নেতার ভূমিকা নিয়ে মোদি সেই আবেগের প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। ভারত ঠিক সেভাবেই জবাব দিচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ দন্তিও বলছেন, ২২ এপ্রিলের হামলার পর থেকে যে কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত ভারত দিয়ে আসছিল, ৭ মের হামলা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দেশের মানুষের সামনে মোদি নিজের যে ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন, সেদিকে ইঙ্গিত করে প্রবীণ দন্তি বলেন, ভারত এখন যা করছে, তা তাদের তৈরি করা একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা রাষ্ট্রের ইমেজ, সন্ত্রাসের প্রতি শূন্য সহিষ্ণুতার বার্তা এবং মোদির ‘দৃঢ় পুরুষ’ ভাবমূর্তির সঙ্গে খাপ খায়। তিনি বলেন, এটা ছিল তাদের নিজেদের তৈরি করা একটি পরীক্ষা, যা মোদি সরকার অতিক্রম করতে চেয়েছিল। আর তাতে সফল হলে রাজনৈতিক লাভও হতে পারে।
তবে পাকিস্তানে ভারতের এই হামলা যে ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন দন্তি। তার এই মূল্যায়নের সঙ্গে কুগেলম্যানও একমত। তিনি বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে পাকিস্তানে ভারতের সবচেয়ে তীব্র সামরিক তৎপরতা এটি।
পাকিস্তান সরকার ভারতের এই হামলাকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছে। তাতে ইসলামাবাদের সামরিক নেতৃত্বও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে কুগেলম্যানের ধারণা। তিনি বলেন, এই হামলা আসলে পাকিস্তানের বর্তমান সরকারকে আরও শক্তিশালী করবে, কারণ সামরিক নেতৃত্ব জনগণকে নিজেদের পেছনে দাঁড় করাতে পারবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বৈধতা অনেকাংশে এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে যে, তারা ভারত থেকে দেশের সুরক্ষা দেয়। এখানে জাতীয়তাবাদের জোয়ার দেখা যেতে পারে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বাসঘাতক শত্রু পাকিস্তানের ভেতরে পাঁচটি স্থানে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। এই ঘৃণ্য আগ্রাসনের শাস্তি থেকে তারা রেহাই পাবে না। তিনি বলেন, বিনা উসকানিতে ভারতের এই হামলার বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার পাকিস্তান সংরক্ষণ করে এবং সেই জবাব ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। পুরো জাতি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশে একতাবদ্ধ। আমাদের মনোবল ও সংকল্প অটুট। পাকিস্তানের সাহসী অফিসার ও সেনাদের জন্য আমাদের প্রার্থনা রইল।’
শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘শত্রুকে তাদের লক্ষ্য কখনোই পূরণ করতে দেওয়া হবে না’।
এদিন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সভাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সেখানে তিনি ‘নিরীহ পাকিস্তানিদের প্রাণহানির বদলা নিতে’ সশস্ত্র বাহিনীকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন।
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুই দেশের সেনাবাহিনী কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারী কামানের গোলাবিনিময় করেছে।
কুগেলম্যান বলছেন, ‘দুই দেশের হাতেই যেহেতু পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, ফলে এই সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই তার মনে হচ্ছে। পারমাণবিক বোমার শক্তি পকেটে রেখে প্রচলিত সামরিক শক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকিও তত বাড়বে। আমরা এখনো সে অবস্থায় যাইনি। তবে ঝুঁকি এখন অনেক বেড়ে গেছে।’