আজ দেশে ফিরছেন রিশাদ-নাহিদ, সঙ্গে দুই সাংবাদিকও

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার প্রভাব এসে পড়েছে পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল)। কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলা ও রাওয়ালপিন্ডিতে ড্রোন হামলার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে টুর্নামেন্টটির বাকি অংশ। বিদেশি ক্রিকেটারদের আপত্তির মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরিয়ে নেওয়ার পরও স্থবির হয়ে পড়ে আয়োজন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নেয় টুর্নামেন্ট আপাতত বন্ধ রাখার।

এই পরিস্থিতিতে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশের দুই তরুণ ক্রিকেটার রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা। বিসিবির নিরলস প্রচেষ্টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর পর ১০ মে সকালে তারা ঢাকা-গামী ফ্লাইট ধরবেন। শনিবার বিকেলের মধ্যেই তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রিশাদ ও নাহিদ পাকিস্তান ছাড়ার প্রক্রিয়ায় বিসিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস পিসিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পিএসএলের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিসিবি পরিচালক ফারুক আহমেদ। তিনি বার্তা পাঠান পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভিকেও। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সঙ্গেও চলেছে নিয়মিত সমন্বয়।

প্রথমবারের মতো পিএসএলে অংশ নিয়েছিলেন রিশাদ ও নাহিদ। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলেন রিশাদ, ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন সবার। অন্যদিকে পেশাওয়ার জালমির স্কোয়াডে থাকলেও এখনো ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি নাহিদের।

রিশাদ-নাহিদের পাশাপাশি পাকিস্তানে ছিলেন বাংলাদেশের দুই ক্রীড়া সাংবাদিক—তাসফিক শাহরিয়ার পলক (ক্রিকফ্রেঞ্জি) ও মাহরুশ প্রত্যয় (বিডিক্রিকটাইম)। বিসিবি তাদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বে দেখেছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই বিমানে দুবাই হয়ে তারাও দেশে ফিরছেন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বিপদে পড়লে বিসিবি সব সময় পাশে থাকে। উত্তেজনাকর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মাঝেও দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের মাধ্যমে রিশাদ-নাহিদদের নিরাপদে দেশে ফেরানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।