শ্রীপুরে লাম্পিস্কিন রোগে এক মাসে শতাধিক গরুর মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে লাম্পিস্কিন রোগে (এলএসডি) আক্রান্ত গরু নিয়ে  দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা। গত এক মাসে উপজেলায় অন্তত শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বাছুরই বেশি। কোনো খামারে একটি গরু আক্রান্ত হলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে অন্য গরুগুলোও আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। কোরবানি ঈদের আগে গরুর এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে খামারিদের।

খামারিরা বলছেন, সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসে লাম্পিস্কিন রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। সরকারিভাবে এই রোগের ভ্যাকসিন সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। এই রোগে আক্রান্ত ছোট বাছুরের মৃত্যুহার পঁচিশ থেকে ত্রিশ শতাংশের বেশি। ভ্যাকসিনের দাম বেশি হওয়ায় খামারিরা গরুকে সময়মতো ভ্যাকসিন দেন না। পশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, খামারিরা গরুকে নিয়মিত এলএসডির (লাম্পিস্কিন ডিজিস) ভ্যাকসিন দেন না। ফলে গরু এই রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত মহামারী আকার ধারণ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বরমী ইউনিয়নের দরগাচালা, ভিটিপাড়া, লাকচতল, নিমাইচালা, কাশিজুলি; কাওরাইদ ইউনিয়নের বলদীঘাট, ধামলই, নয়াপাড়া, পশ্চিম সোনাব, জুগিসিট আর তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা, টেপিবাড়ি, পোষাইদ, নয়নপুর, জৈনা বাজার, তেলিহাটি মোড় এলাকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এ ছাড়া শ্রীপুর পৌরসভাসহ অন্যান্য ইউনিয়নেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

বরমী এলাকার ক্ষুদ্র খামারি তাজউদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, তার অন্তত ষাট হাজার টাকা দামের একটি বাছুর লাম্পিস্কিন রোগে আক্রান্ত হয়। শুরুতে শরীরে দুয়েকটি গোটা দেখা দেয়। পরে সারা শরীতে তা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেগুলো ফেটে ঘা হয়ে পুঁজ বের হতে থাকে। এক সময় বাছুরটি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। ৪/৫ হাজার টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানো হলেও বাছুরটি বাঁচানো যায়নি।

ধামলই এলাকার পল্লী পশু চিকিৎসক মোশারফ হোসেন জানান, প্রতিদিন তাকে লাম্পিস্কিন রোগে আক্রান্ত অন্তত ২০/২৫টি গরুর চিকিৎসা করতে হচ্ছে, যার আশি শতাংশই বাছুর। ইতিমধ্যে বহু বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

ভিটিপাড়া গ্রামের খামারি সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে এই রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয় না। দাম বেশি হওয়ায় খামারিরা ভ্যাকসিন দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. গোলাম মোর্শেদ মুরাদ বলেন,  ‘প্রতিদিন পশু হাসপাতালে লাম্পিস্কিন রোগে আক্রান্ত গরু বেশি আসছে।

কোথাও কোথাও গরু মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে লাম্পিস্কিন রোগের প্রকোপ এত বেড়েছে যে তা মহামারী আকারের বলা চলে। গত এক মাসে উপজেলায় এই রোগে শতাধিক গরু মারা গেছে। এই রোগে বাছুর বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আক্রান্ত গরুকে মশারির নিচে অন্য (সুস্থ) গরু থেকে আলাদা করে রাখতে হবে। আর চিকিৎসায় উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। শুধু জ¦র নিয়ন্ত্রণ ও ব্যথা কমার ওষুধ দিতে হবে। আর কিছু ওরাল (মুখে খাওয়ার) ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। সরকারিভাবে এই রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। কোনো গরু অসুস্থ হলে দ্রুত আমাদের কাছে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।’