আ.লীগের নিবন্ধন বাতিল নিয়ে সিদ্ধান্ত আদেশ পেলে

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ সোমবার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সরকারি আদেশ হাতে পাওয়ার পর এই রাজনৈতিক দলটির নিবন্ধন বাতিল-সংক্রান্ত করণীয় ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। গতকাল রবিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সিইসি বলেন,  ‘আমরা শুধু রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। কোনো দলের কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের। তাই সরকার থেকে গেজেট প্রকাশ হলেই আমরা বৈঠকে বসব। এজন্য আলাদা করে সরকারের কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন নেই।’

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়াারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গেজেট প্রকাশিত হলে অতি দ্রুত তারা দলটির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে আলোচনায় বসবেন।

নির্বাচনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে দলটি নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। আরপিওর ৯০-জ অনুচ্ছেদের (১)(খ) দফায় বলা হয়েছে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হবে, যদি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দলটির নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল নাগরিক পার্টিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দলটি নিষিদ্ধের দাবিতে কর্মসূচির ডাক দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ওইদিন রাত থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন তারা। পরে বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।

পরদিন গত শুক্রবার বিকেল থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে টানা আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ বা আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

পরদিন শনিবার বিক্ষোভকারীরা সন্ধ্যার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় ঘোষণা দেওয়া হয় রাতের মধ্যে যদি দাবি না মেনে নেয়, তবে মার্চ টু প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘোষণা করা হবে। পরে দাবির মুখে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের সব কর্মকা- নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্র্বর্তী সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনের সামনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ‘দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।’