ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এসময় উভয়পক্ষের ১০-১২টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের চান্দের বাড়ি ও ছলিম বাড়ির গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাটাই উওর ইউনিয়নের চান্দের বাড়ি গোষ্ঠী ও ছলিম বাড়ির গোষ্ঠীর মধ্যে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে অনেক বছর ধরেই বিরোধ চলে আসছে। চান্দের বাড়ির গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার, সাবেক ইউপি সদস্য তকদির হোসেন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোবারক হোসেন। ছলিম বাড়ির গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন কামাল হোসেন। কামাল হোসেন বিএনপির নেতা। সোমবার রাতে ছলিম বাড়ির গোষ্ঠির শহিদ মিয়ার ছেলে কয়েকজনকে নিয়ে চান্দের গোষ্ঠির বাড়িতে মাদক সেবন করেছিলো। এতে চান্দের বাড়ির লোকজন বাধা দিলে দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে তর্ক এবং ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ছলিম গোষ্ঠীর ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জেলা শহরের কালাই শ্রী পাড়ায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাত নয়টার দিকে সদর উপজেলার নাটাই গ্রামে যান। সেসময় রাস্তায় একা পেয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে হামলা চালিয়ে আনোয়ারকে বেধড়ক মারধর করেন চান্দের গোষ্ঠীর লোকজন। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উভয় গোষ্ঠীর লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন আনোয়ারকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। এদিকে সোমবার রাতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে চান্দের বাড়ি ও ছলিম বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে উভয়পক্ষের ১০-১২টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বক্তব্য নেওয়ার জন্য চান্দের বাড়ির গোষ্ঠীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার ও ছলিম গোষ্ঠীর কামাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধ ও দ্বন্ধের জের ধরে চান্দের বাড়ির গোষ্ঠী ও ছলিম বাড়ির গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চান্দের বাড়ির নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।