ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত ও উভয়পক্ষের ১০-১২টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। গতকাল সকালে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের চান্দের বাড়ি ও ছলিম বাড়ির গোষ্ঠীর লোকজনদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অনেক বছর ধরেই বিরোধ চলে আসছে। চান্দের বাড়ির গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার, সাবেক ইউপি সদস্য তকদির হোসেন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোবারক হোসেন। ছলিম বাড়ির গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির নেতা কামাল হোসেন।
গত সোমবার রাতে ছলিম বাড়ির গোষ্ঠীর শহিদ মিয়ার ছেলে কয়েকজনকে নিয়ে চান্দের গোষ্ঠীর এক বাড়িতে মাদক সেবন করছিল। এতে চান্দের বাড়ির লোকজন বাধা দিলে দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়।
ছলিম গোষ্ঠীর ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন রাতে নাটাই গ্রামে যাওয়ার সময় তাকে একা পেয়ে বেধড়ক মারধর করেন চান্দের গোষ্ঠীর লোকজন। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উভয় গোষ্ঠীর লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন আনোয়ারকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। এদিকে পূর্ববিরোধ ও সোমবার রাতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে চান্দের বাড়ি ও ছলিম বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধ ও দ্বন্দ্বের জের ধরে চান্দের বাড়ির গোষ্ঠী ও ছলিম বাড়ির গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।