ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্যর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে এ প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কালাম মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সাম্যর ডান পায়ের রানের পেছনে কাটা জখম রয়েছে এবং পিঠের মাঝ বরাবর লালচে দাগ দেখা গেছে।
ময়নাতদন্তকালে মর্গে উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা মো. ফখরুল আলম। চোখের জলে ভেসে তিনি বলেন, ‘গতপরশু ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। তখনও আমাকে বলেছিল, ‘‘বাবা চিন্তা কোরো না, আমি ভালো আছি।’’ এরপরই কাল রাতে আমার সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পাই।’
শোকাহত বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল, কারও সঙ্গে কোনো বিরোধে যেত না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হলে থাকতে পারেনি, কারণ তার বড় ভাই ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা। ৫ আগস্টের পর সে হলে সিট পেয়েছে। বাইকের ধাক্কা লেগেছে— এমন একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এই হামলা হয়নি, ওকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের হত্যার সর্বোচ্চ বিচার চাই। যেন আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়।’
স্বজন ও সহপাঠীরা জানান, ময়নাতদন্ত শেষে সাম্যর লাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশের পর কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে পাঠানো হবে, সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন হবে।