গণমানুষের প্রেসিডেন্ট হোসে মুজিকা

গণমানুষের প্রেসিডেন্ট হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে মুজিকা। অনাড়ম্বর জীবনযাপন, সরল দার্শনিক চিন্তা ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এই রাজনীতিবিদ ১৩ মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। কিংবদন্তি বিপ্লবী ও রাষ্ট্রনায়ককে নিয়ে লিখেছেন রেজা ঘটক

এল পেপে

বিশ্ব জুড়ে বামপন্থিদের কাছে এক কিংবদন্তি ও গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে ‘পেপে’ মুজিকা। ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন পেপে। ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোসে আলবার্তো পেপে মুজিকা কর্ডানো। উরুগুয়ের মানুষ তাদের প্রিয় এই নেতাকে ভালোবেসে ডাকেন ‘এল পেপে’। নিজের বেতনের সিংহভাগ দরিদ্রদের জন্য দান করে ২০১২ সালে তিনি সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে। নিজেকে কিন্তু মোটেও গরিব ভাবতেন না মুজিকা। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কাছে গরিব হচ্ছে তারাই, যারা খুবই বেশি বেশি চায়। কারণ যাদের চাওয়া অনেক বেশি, তারা কখনোই তৃপ্ত হয় না।’ ১ মার্চ ২০১৫ সালে তার প্রেসিডেন্টশিয়াল মেয়াদ শেষ হলেই রাজনীতি থেকে অবসর নেন তিনি। অবসর জীবন তিনি তার খামারবাড়িতেই কাটিয়েছেন। মুজিকার জনপ্রিয়তার মূলে তার সরল দার্শনিক চিন্তাভাবনা। ১৯৭২-৮৫ সালে উরুগুয়ের স্বৈরশাসনের সময় মুজিকা ১৩ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি একটি ছোট্ট সেলে বন্দি ছিলেন। সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠে, যেখানে কোনো বই বা অন্য কোনো সঙ্গ ছিল না, তিনি সেখানে চিন্তা করতে শিখেছিলেন।

মুজিকার শৈশব ও কৈশোর

১৯৩৫ সালের ২০ মে হোসে মুজিকার জন্ম। বাবার নাম দেমেত্রিও মুজিকা। মায়ের নাম লুসি কর্ডানো। মুজিকার বাবা ছিলেন উরুগুয়ের স্প্যানিশ শাসিত বাস্কি আদিবাসীদের বংশধর। পেশায় কৃষক। আর মা লুসি ছিলেন এক ইতালীয় অভিবাসী পরিবারের মেয়ে। ১৯৪০ সালে বাবা দেমেত্রিও মুজিকা কপর্দকশূন্যভাবে যখন মারা যান, তখন লুসির বালক মুজিকাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

ছোটবেলায় হোসে মুজিকা স্থানীয় বেকারির দোকানের ডেলিভারি বয়, হোটেল বয় ও ফুল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন। খুব ছোটবেলা থেকেই মুজিকা বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তখন তিনি ন্যাশনাল পার্টির নেতা এনরিকে এরোর খুব ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। মাত্র সতেরো বছর বয়সে তিনি উরুগুয়ের বাম চরমপন্থি নেতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

বিপ্লবের দিনগুলো

পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে উরুগুয়েতে চরম মুদ্রাস্ফীতির কারণে রুগ্্ণ অর্থনীতি মহাসংকটে পড়ে যায়। তখন চে-র ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন মুজিকা ও তার সঙ্গীরা। রাউল সেনডিকের নেতৃত্বে তারা গঠন করেন টুপামারোস ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্ট বা সংক্ষেপে এনএলএম-টি। পেরুর কিংবদন্তি বিপ্লবী চরিত্র দ্বিতীয় টুপাক আমারুর নামানুকরণে এই নাম রাখেন। আর এসব গেরিলাদের তখন বলা হতো ‘টুপামারো’। টুপামারো গেরিলাদের প্রধান নীতি ছিল অত্যাচারীর নিধন ও দরিদ্রের পালন। যে কারণে রাতারাতি টুপামারো গেরিলারা উরুগুয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ১০০ জনেরও কম মানুষ নিয়ে তারা সে সময় উরুগুয়ের অত্যাচারী শাসকদের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তারা ব্যাংক লুট করে বিত্তশালীদের অবৈধ অর্থ দরিদ্রদের উন্নয়নে ব্যয় করতেন। দামি ক্যাসিনো দখল করে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের টাকা পাঠাতেন। যে কারণে ১৯৬৯ সালে টাইমস ম্যাগাজিন তাদের ‘রবিন হুড গেরিলা’ নামে আখ্যায়িত করেছিল। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭০-এর দশকের শুরুর সময় পর্যন্ত তাদের এই গেরিলা বিদ্রোহ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

কারাজীবন

১৯৬৮ সালের জুন মাসে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট জর্জ পাসেকো আরেকো অব্যাহত শ্রমিক ধর্মঘট প্রতিরোধে দেশে জরুরি আইন জারি করেন। তখন সেনাবাহিনী এসব চরমপন্থি গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধের পর গ্রেপ্তার হন এল পেপে। পেটে মোট ৬টি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হন মুজিকা। গ্রেপ্তারের পর মন্টেভিডিও শহরের পান্টা ক্যারেটাস কারাগারে তার ঠাঁই হয়। সেখান থেকে দুবার পালিয়ে গিয়েও ১৯৭২ সালে ফের ধরা পড়েন মুজিকা। ১৯৭৩ সালের জুন মাসে এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী উরুগুয়ের ক্ষমতা দখল করে। তখন নয়জন বিশেষ টুপামারোসকে বিশেষভাবে শনাক্ত করে ছুড়ে ফেলা হয় সলিটারি সেলে। যাদের মধ্যে ছিলেন রাউল সেনডিক, ফারনান্দেজ হুইদোব্রো, হোসে মুজিকা, হেনরি অ্যাংলার, মাউরিসিও রোসেনকফ প্রমুখ। অন্ধকারাচ্ছন্ন, দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে বছরের পর বছর থাকতে থাকতে এ সময়ে কেউ কেউ উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন। এ সময়ে সামরিক জান্তা বিপুল সংখ্যক বামপন্থী নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল।

নতুন রাজনৈতিক জীবন

১৯৮০ সালে উরুগুয়ের জনসাধারণ সেনা স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রে ফেরার জন্য গণভোটে অংশ নেয়। গণভোট গণতন্ত্রের পক্ষে গেলে সেনাপ্রধান গ্রেগরিও কনরাডো আলভারেজ ১৯৮১ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিজেকে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন। এ সময় আলভারেজ উরুগুয়ের কমিউনিস্ট ও টুপামারোসদের ব্যাপকহারে নিধন করেন। এ সময় তার জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে। ১৯৮৪ সালের নভেম্বর মাসে তিনি সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন। নির্বাচনে কলরাডো পার্টির জুলিও মারিয়া সাংগুয়েনেট্টি জয়ী হন। উরুগুয়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী দেশের প্রেসিডেন্ট শপথ নেন ১ মার্চ। তার আগে ১২ ফেব্রুয়ারি স্বৈরশাসক গ্রেগরিও কনরাডো আলভারেজ পদত্যাগ করেন। অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তখন শপথ নেন সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল আদ্দিয়েগো।

দীর্ঘ ১৪ বছর বন্দিজীবনের পর ১৯৮৫ সালে মুক্তি পান হোসে মুজিকা। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর টুপামারোস গেরিলারা মিলে বামপন্থি রাজনৈতিক দল ব্রড ফ্রন্ট করেন। ১৯৭৩ সালে এই দলটি গঠিত হলেও উরুগুয়েতে স্বৈরশাসনের অবসানে ব্রড ফ্রন্ট দলটি আবার কার্যক্রম শুরু করে। এই দল থেকে খুব দ্রুতই জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন হোসে মুজিকা।

জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে মুজিকার পুরনো দিনের রবিন হুড গেরিলা ভাবমূর্তিও ভূমিকা রাখে। ১৯৯৪ সালের নির্বাচনে জয়ের কাছাকাছি এসেও হার মানে ব্রোড ফ্রন্ট। তবে ৯৯ জন সাংসদের পার্লামেন্টে তখন দুজন প্রাক্তন টুপামারো নেতা নির্বাচিত হন। এদেরই একজন ছিলেন হোসে মুজিকা।

১৯৯৯ সালে মুজিকা সিনেটর নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালের নির্বাচনে বামপন্থি জোট ব্রড ফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত হন তাবারে ভাসকুয়েজ। হোসে মুজিকা ২০০৫-২০০৮ সাল পর্যন্ত তাবারে ভাসকুয়েজের কেবিনেটে পশুসম্পদ, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্রড ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে হোসে মুজিকা উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১ মার্চ ২০১০ সালে তিনি উরুগুয়ের চল্লিশতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ও দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

প্রেসিডেন্ট এল পেপে

২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত হোসে মুজিকা এল পেপে উরুগুয়ের চল্লিশতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েও নিজের গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেছেন। উরুগুয়ের বিশাল জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে তার ঠোঁট কাটা কথা, আদর্শবাদী ভাবমূর্তি এবং সহজ-সরল জীবন-যাপন। তার অনুসারীদের মতে, এল পেপে মুখে যা বলেন, কাজেও তা করে দেখান। সাধারণ পোষাকে চলতি ভাষায় তার বক্তৃতা রাতারাতি জনপ্রিয়তা পায়। জীবনেও তিনি গলাবন্ধ টাই পড়েননি।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে সদস্যদের মুজিকা বলেন, ‘বিপুল অর্থব্যয়ে আয়োজিত বৈঠকে যাওয়া বন্ধ করুন। এখানে কাজের কাজ কিছুই হয় না।’

মুজিকা বলেন, একজন আমেরিকান সারাদিন যা খায়, সেই পরিমাণ খাবার যদি পৃথিবীর সবাই ভোগ করত তাহলে, পৃথিবীর মতো আরও তিনটি অতিরিক্ত গ্রহ আমাদের দরকার হতো। জার্মানিতে মানুষের যত গাড়ি আছে, গোটা ভারতের সব নাগরিকের যদি সে পরিমাণ গাড়ি থাকত, তাহলে আমাদের নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য আর কতটুকু অক্সিজেন অবশিষ্ট থাকত সেটাই আজ বড় প্রশ্ন? তিনি বলেন, ধনিদের অতিরিক্ত ভোগের কারণেই পৃথিবী সবচেয়ে বেশি পরিমাণ দূষিত হচ্ছে।

মুজিকা বলেন, আমি স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে চাই আর আমি সেভাবেই বেঁচে আছি। লিভিং ফ্রুগালি ইজ এ ফিলোসফি অব লাইফ, বাট আই অ্যাম নট পুয়োর। আমার একটি নিজস্ব জীবনযাপন পদ্ধতি আছে। আর প্রেসিডেন্ট হলেও আমি সেই জীবনযাপন পদ্ধতি কোনো পরিবর্তন করিনি। আমি যা আয় করি, তা দিয়ে আমার খুব ভালো মতোই চলে যায়। ...আমি সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে চাই। বিলাসিতা আমি পছন্দ করি না। একদম করি না।

আমি নিজে জেল খেটেছি। মানুষের কতটুকু প্রয়োজন তা আমি ভালো করে জানি। আমি মানুষের চাহিদা যেমন বুঝি, তেমনি অপচয় বা বিলাসিতাও বুঝি। আমি বলতে চাই, আমি এই পৃথিবীর একজন খাঁটি কয়েদি। আমি এই পৃথিবীর জেলে আছি। তাই, আমাকে অপচয় করলে চলবে না। তাই আমি নিজে এভাবে চলি।

অনাড়ম্বর জীবনযাপন

শৈশব থেকেই চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হোসে মুজিকা দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও বদলাননি তার জীবনযাপনের ধরন। ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ের পার্লামেন্ট মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিজের ভোক্সওয়াগন বিটলে চেপেই পার্লামেন্টে যাতায়াত করতেন পেপে। ২০০৫ সালে বিয়ের পর ফুলের বাগান ঘেরা শহরতলির তিন কামরার টিনের চালওয়ালা ভাঙাচোরা বাড়িতে কুকুর-বিড়াল-মুরগি আর ভেড়াদের নিয়েই ছিল তার সুখে সংসার।

উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মাসিক বেতন ছিল ১২ হাজার ডলার। যার ৯০ ভাগই তিনি দান করে দিতেন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। যা ব্যয় করা হতো গরিবদের সহায়তা এবং ছোট বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে দেশের সামাজিক সেবামূলক সংস্থায়। নিজের বেতনের মধ্য থেকে তিনি নিজের জন্য রাখতেন মাত্র ৭৭৫ ডলার। এই অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য সারা বিশে^ তিনি পরিচিত বিশে^র দরিদ্রতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও মুজিকা খামারে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত কৃষিকাজ করতেন। খামারে চাষ করতেন বিভিন্ন রকমের ফুল। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র এই প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত ছিল মাত্র দুজন পুলিশ আর ম্যানুয়েলা নামের একটি কুকুর। নিজেকে সব সময় ঋণমুক্ত রেখেছেন মুজিকা। এই গেরিলা নেতার নামে কোনো ঋণ নেই। এমনকি তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নেই। সবসময় নিজেকে একজন কৃষক হিসেবে পরিচয় দিতেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন মুজিকা। যে কারণে বিলাসবহুল আড়ম্বর ছেড়ে নিজের পুরনো বাড়ি-গাড়ি-খামার নিয়েই দিব্যি ভালোই ছিলেন মুজিকা। দেশবাসী যাকে আদর করে ডাকেন ‘এল পেপে’।

হোসে মুজিকাকে গোটা পৃথিবীর মানুষ সারা জীবন মনে রাখবে। এই পৃথিবীর জন্য এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন টুপামারো এই গেরিলা নেতা এল পেপে।