কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কূটনৈতিক তৎপরতায় দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত থামলেও চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে ভারত ফের হামলা চালাতে পারে সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারতের পক্ষ থেকে উসকানি এলে তার শক্ত জবাব দেবে পাকিস্তান। এদিকে পাকিস্তানের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরমাণু অস্ত্র নিয়ে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চীনের সঙ্গে নতুন টানাপড়েন শুরু হয়েছে ভারতের। সম্প্রতি চীন ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ২৭ জায়গার নতুন নামকরণ করেছে। এতে ভারতের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জবাবে বেইজিং বলছে, জায়গাগুলোর নতুন নামকরণ চীনের ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় ইসলামাবাদ। বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নয়াদিল্লিকে এ বিষয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রতিবেদন বলা হয়, শিয়ালকোটের পসরুর সেনানিবাসের ফ্রন্টলাইন এলাকা পরিদর্শনের সময় দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে কাশ্মীর বিরোধ এবং পানি বণ্টনসহ সব বিতর্কিত বিষয় সমাধানের জন্য ভারতকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ভারত। এ সময় ভারতীয় হামলার জবাবে পরিচালিত ‘অপারেশন বুনিয়ানম মারসুস’-এর জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন শাহবাজ। তিনি বলেন, ৬-৭ মে ভারতীয় হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশী দেশটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনী একাধিক ভারতীয় রাফায়েল বিমান ভূপাতিত করেছে, ২৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, পুরো জাতি আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, আপনারা যদি আবার আমাদের ওপর আক্রমণ করেন, তাহলে আপনারা সবকিছু হারাবেন। শাহবাজ আরও বলেন, আমরা যুদ্ধ এবং সংলাপের জন্য প্রস্তুত। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের। এ সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
ভারত ফের হামলা চালাতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। বুধবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তান অযৌক্তিক হামলার জেরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার রাজনৈতিক মূলধন হারিয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র সমালোচনার কারণে বর্তমানে তিনি নিজের দেশের রাজনীতিতে কোণঠাসা অবস্থায় আছেন এবং নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে তিনি এখন মরিয়া। খাজা আসিফ আরও বলেন, এ অবস্থায় তিনি ফের পাকিস্তানে হামলার নির্দেশ দেবেন এমন আশঙ্কা যথেষ্ট পরিমাণে আছে। তবে ভারত যদি কোনো ধরনের বেপরোয়া পদক্ষেপ নেয়, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান তার দৃঢ় জবাব দেবে এবং শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক চাপও সহ্য করতে হবে ভারতকে।
এদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার জম্মু ও কাশ্মীর গিয়েছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, কাশ্মীরে গিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন তিনি। এ সময় রাজনাথ সিং বলেন, বিশ্ব জানে যে আমাদের সেনাবাহিনীর লক্ষ্য সঠিক। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অঙ্গীকার আজ কতটা দৃঢ়, তা বোঝা যায়। আমরা তাদের পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের পরোয়াও করিনি। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পুরো বিশ্ব দেখেছে পাকিস্তান কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ভারতকে হুমকি দিয়েছে। আজ শ্রীনগরের মাটি থেকে, আমি এই প্রশ্ন তুলতে চাই যে, পারমাণবিক অস্ত্র কি এত দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দুর্বৃত্ত জাতির হাতে নিরাপদ? আমি বিশ্বাস করি, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি জায়গার নতুন নামকরণ নিয়ে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে ভারতের। এ ঘটনায় চীনকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ভারত। মূলত চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ নামে ডাকে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাংনানের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ তারা নিজস্বভাবে চীনা নামে করেছে এবং এটি তাদের ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’। ইতিহাস, ভূগোল এবং প্রশাসনিক দিক থেকে জাংনান চীনের অংশ। তাই ওই অঞ্চলের জায়গাগুলোকে চীনা নামে ডাকা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।