সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘একটি দেশে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকতেই পরে। তা মোকাবিলা  করার জন্য রাজনৈতিক সরকারের বিকল্প নেই। অন্তর্র্বর্তী সরকার বিষয়টি বোঝে। কিন্তু তাদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে।’ গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে মাওলানা মতিনের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো অসুবিধা থাকার কথা নয়। অনেকে বলছেন, আগে সংস্কার করতে হবে। তাহলে প্রশ্ন আসে, আপনারা কবে থেকে সংস্কারের কথা বলছেন? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তো ১৯৭৬-৭৭ সালেই ১৯ দফা সংস্কার কর্মসূচি দিয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে অত্যন্ত সুবিন্যস্ত ২০৩০ ভিশন দিয়েছিলেন, যা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব। এরপর ২০২২ সালে তারেক রহমান ২৭ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেটিকে সমৃদ্ধ করে, আন্দোলনে যুক্ত সবার অংশগ্রহণে ২০২৩ সালে আমরা ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচি ঘোষণা করি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি পরিপূর্ণ সংস্কারের পক্ষে। তবে সংস্কার একবারে শেষ করার বিষয় নয়। এটি অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে হবে। সংস্কারের বিষয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রস্তাব দিয়েছে। আগামী জুন বা জুলাইয়ের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনে বাধা কোথায়?’

কাউকে সুযোগ দিতেই নির্বাচন পেছানো হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কারও দল গোছানোর জন্য জনগণের ভোটাধিকার বিলম্বিত হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব অঞ্চলের মানুষ ফ্যাসিবাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো অনেক আগে থেকেই এক দফার দাবি জানিয়ে আসছিল। এ গণঅভ্যুত্থান বিএনপির দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে গেলেও মানুষের সব দাবি পূরণ হয়নি। ভোটাধিকার এখনো ফিরে পায়নি মানুষ। গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্র্বর্তী সরকার লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার পরের সরকার। এ সরকারের নেতৃত্বে লড়াইয়ে বিজয়ী হইনি। দীর্ঘদিন ধরে লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারী শাসকের পতন হয়েছে।’

সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান খান ইরান, মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।