দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে ধান ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পোকার আক্রমণে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক। তবে অধিকাংশ জমির ধান বের হয়ে যাওয়ায় পোকার আক্রমণে ধানের তেমন একটা ক্ষতি হবে না দাবি কৃষি বিভাগের।
মাজরা পোকা ধান গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে। কয়েকবার কীটনাশক স্প্রে করেও পোকার আক্রমণ থেকে পরিত্রান মিলছে না।
হিলির গোহাড়া গ্রামের কৃষক রতন কুমার বলেন, একে তো আলু আবাদ করে দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হয়েছে। ধানের আবাদ করে সেই লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারব কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। ধান রোপণের পর তিন থেকে চারবার কীটনাশক স্প্রে করলাম কিন্তু ঠিক যখন ধানের শীষ বের হবে সেই সময় মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।
কৃষক উৎপল কুমার বলেন, যেখানে বিঘাপ্রতি ধানের ফলন ২০ থেকে ২২ মণ করে হতো সেখানে তা কমে ১৭ থেকে ১৮ মণ ধান হয় কি না, সেই নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় ধানের আবাদ করতে অনেক খরচ হয়েছে। এত টাকা খরচ করে ধানের ফলন যদি ঠিকমতো না পাই তাহলে তো ধান আবাদ করা লোকসান।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, কিছু কিছু জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে, তবে ছায়াযুক্ত জমিতে পোকার আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। এই রোগ থেকে পরিত্রানের জন্য কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ব্লক পর্যায়ে নিয়মিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করছেন। সেই সঙ্গে অফিসার পর্যায়ে জেলা ও অঞ্চল পর্যায়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করছেন। তিনি আশা করেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় কৃষকরা ধানের ভালো ফলন পাবেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা থেকে ৩৪ হাজার ৯৯৪ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।