করিডর বা বন্দর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচিত সরকার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক করিডর কিংবা বন্দর ব্যবহার কাউকে করতে দেওয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নিতে পারে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জবাবদিহিমূলক সরকার। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর বনানীতে হোটেল লেকশোরে এনডিএমের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার মিয়ানমারকে মানবিক করিডর এবং চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের দিতে চায়। তাদের কর্মকা-ে মনে হচ্ছে এটিই তাদের কাছে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। সরকারের আইনগত ও রাজনৈতিক বৈধতা থাকলেও এই সরকার জবাবদিহিমূলক সরকার নয়। তাই এসব সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারকে নিতে হবে।’

রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে সরকার যে গেজেট জারি করেছে তার সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু তার আগে উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সরকার এটি না করায় এখন রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসন্তুষ্ট। তারা এখন আন্দোলন করছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকার রাজস্ব হারাবে। আগামী বাজেটে আর্থিক সংকট দেখা দেবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আনতে চায়। একাধিক অনুষ্ঠান করেছে এ লক্ষ্যে। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে দরকার রাজনৈতিক সরকার। সরকারের এহেন কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারছে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘১০ মাস হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত আন্দোলনে কতজন মারা গেছে তার তালিকা সরকার তৈরি করতে পারেনি। যারা আন্দোলনে আহত হয়েছেন তাদের বিষয়ে সরকার উদাসীন। আহত মানুষের মধ্যে হাহাকার, আর্তনাদ চলছে। অথচ ফিলিস্তিনের গাজায় কতজন মারা যাচ্ছে তা প্রতিনিয়িত জানা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িত থাকা রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী রোডম্যাপ চাইছে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো আগ্রহ নেই। নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় জনগণের মনে নানা প্রশ্ন উঠছে। জনগণ অন্ধকারে থাকছে। অন্ধকারে থাকায় অস্থিরতা বাড়ছে মানুষের মধ্যে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের দাবি নিয়ে রাজপথে নামছে। সরকার জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে।’