শেখ পরিবারের লুটের টাকায় হবে ‘ব্যবস্থাপনা তহবিল’

লুটপাট ও পাচারের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ায় শেখ পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকার অর্থ, সম্পদ আটক ও জব্দ করা হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে ‘লুটের টাকা ব্যবস্থাপনা তহবিল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর মধ্যে যেসব অবৈধ অর্থ ব্যাংকের বাইরের সেগুলো জনহিতকর কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে পাচার টাকা ফেরত আনার বিষয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহিনুর ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটা ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা। যেটার অর্থ দিয়ে আমরা ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারব। কারণ ব্যাংকগুলো বিশালভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের টাকা তো লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি টাকা যেগুলো নন ব্যাংক রিলেটেড, যেগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা অর্জন করা হয়েছে, সেগুলো সরকার আরেকটা ফান্ডে নিয়ে জনহিতকর কাজে ব্যয় করবে। সবই আইনগতভাবে করা হবে। কোনোটাই আইনের বাইরে হবে না।

তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে। তথ্যের গুণগতমান বিদেশি আদালতের রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুর্নীতির তদন্তে দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের পাশাপাশি ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকার অর্থ ‘অ্যাটাচমেন্ট’ আছে। বৈদেশিক সংযুক্ত ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার (দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা) এবং ৪২ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি স্থিতি (ফ্রিজিং) অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে ২৫৩ কোটি (২ কোটি ৭ লাখ ডলার) অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ আছে। এই অর্থ থেকে একটি ‘লুটের টাকা ব্যবস্থাপনা তহবিল’ গঠন করা হবে, যা সরকারের ব্যবস্থাপনায় থাকবে। গভর্নর বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ফান্ড (লুটের টাকা ব্যবস্থাপনা তহবিল) গঠন করা হবে। ব্যাংক ক্ষতিপূরণ এবং জনহিতকর কাজে ব্যবহারের জন্য দুই ধরনের ফান্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয় আহসান এইচ মনসুর বলেন, টাকা কীভাবে ফেরত আনতে হয়, সেটার কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্সটা আমরা জানি। সাধারণত এটি করতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। কিন্তু এর মধ্যে ইমিডিয়েট কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিদেশে তাদের যে সম্পদ আছে, সেটাকে ফ্রিজ করা যায়। সেটা আপেক্ষিকভাবে বছরখানেকের মধ্যে করা সম্ভব। প্রথমে আইনের প্রক্রিয়া আমাদের দেশের সম্পন্ন করতে হবে, তারপর সঠিক প্রণালিতে বিদেশে রিকোয়েস্ট করতে হবে। যেটাকে বলা হয় মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ)। আমরা এখন এ প্রক্রিয়ায় আছি। আমরা রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছি।

গভর্নর বলেন, আমাদের তথ্য সংগ্রহ এবং গুণগত মান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বিদেশে, যে রায় হবে, সেই রায়ের ক্ষেত্রে। এজন্য আমাদের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ তথ্য তাদের সরবরাহ করতে হবে এবং আমাদের লিগ্যাল প্রসেস বিদেশে শুরু করতে হবে। সেদিকেই আমরা এগোচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে দুদক সেটা তদন্ত করবে। তদন্ত করে যদি মনে করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট আনা যাবে, তাহলে সেটা তারা নিয়ে আসবে। এখানে দুদককে কেউ বাধা দিচ্ছে না। দুদক নিজস্ব প্রক্রিয়ায় এ কাজটি করছে। এখানে আমার মন্তব্য করাটা একেবারেই সমুচিত নয়।