ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা, যাতে প্রতিটি মুহূর্তে রয়েছে সওয়াব অর্জনের উপায়। মুসলমানদের সওয়াব অর্জনের জন্য রয়েছে অসংখ্য সহজ পথ, যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। অনেক সময় আমরা মনে করি, কেবল নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতই ইবাদতের একমাত্র উপায়। কিন্তু হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এমন অনেক আমল শিখিয়েছেন, যেগুলো আকারে ছোট, উচ্চারণে সহজ, কিন্তু পরকালে তা আমলের পাল্লায় হবে অনেক ভারী। এই আমলগুলো মানুষ ঘরে বসে, হেঁটে চলতে, এমনকি কাজের ফাঁকে ফাঁকেও করতে পারে। অথচ এসবের বিনিময়ে মহান আল্লাহ তার বান্দাকে অগণিত নেকি, গুনাহ মাফ এবং জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দান করেছেন।
হাদিসে এমন বহু জিকির ও দোয়ার কথা বলা হয়েছে, যেগুলোর নিয়মিত চর্চা একজন মানুষকে গুনাহ থেকে মুক্তি দেয়, জান্নাতের পথে অগ্রসর করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সহায়ক হয়। এই দোয়া ও জিকিরগুলো কেবল মুখে উচ্চারণ করার বিষয় নয়; বরং এর মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে। হৃদয়ে আল্লাহভীতি জাগ্রত হয়, ইমান মজবুত হয় এবং আত্মা প্রশান্তি লাভ করে। এ রকম অসংখ্য হাদিস থেকে ছয়টি সহজ অথচ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ জিকির ও আমল তুলে ধরা হলো।
এক. দৈনিক ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করলে ১ হাজার সওয়াব লেখা হয় এবং ১ হাজার গুনাহ মাফ করা হয়। (সহিহ মুসলিম)
দুই. বেশি বেশি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা। এটা আমলের পাল্লাকে ভারী করে এবং এটি সর্বোত্তম দোয়াও বটে। (ইবনে মাজাহ)
তিন. ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ পাঠ করা। রাসুল (সা.) এটাকে পৃথিবীর সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় বলে সাব্যস্ত করেছেন। (সহিহ মুসলিম)
চার. দৈনিক ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করা। এতে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ (সগিরা) গুনাহ থাকলেও তা মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি)
পাঁচ. রাসুল (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’ এই বাক্যগুলো উচ্চারণে সহজ, আমলের পাল্লায় ভারী এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। (সহিহ বুখারি)
ছয়. রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বাক্যটি হচ্ছে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটি।
(সহিহ বুখারি)