কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ঢাকার সড়কগুলো আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনের কারণে রাস্তা অবরোধে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা, যা ঢাকার জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকার আকাশ কালো মেঘে ঢাকা ছিল। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া ঝুম বৃষ্টিতে নগরীর অনেক সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। এর ফলে শাহবাগ, গুলিস্তান, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে চলমান আন্দোলন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এর ফলে শাহবাগ, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা তীব্র যানজটের কারণ হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী, কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন এবং পরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ও অবরোধ করেন। এই অবরোধ বেলা সাড়ে ৫ পর্যন্ত চলে। একই সময়ে, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে তাকে অবিলম্বে শপথ দেওয়ার দাবিতে মৎস্য ভবন ও কাকরাইল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। হাইকোর্টের রায় তাদের পক্ষে থাকলেও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবিতে তারা এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে যাত্রীদের বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, তবুও যানজটে নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে।
মো. শাওন নামে এক যাত্রী জানান, ‘সদরঘাট থেকে তেজগাঁও যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগছে। দশ মিনিটের পথে ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনের কারণে বাসা থেকে বের হলেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
নিউমার্কেট থেকে শ্যামলী যাওয়া ব্যবসায়ী জামিউল আহসান বলেন, ‘বাস কম ছিল, তাই ব্যাটারিচালিত রিকশায় উঠেছিলাম। কিন্তু ঢাকা কলেজের সামনে রাস্তা পানিতে ডুবে ছিল। রিকশা পানিতে বন্ধ হয়ে যায়। বাস চলার সময় মনে হচ্ছিল স্রোতের মধ্যে আছি।’
মগবাজারের রমনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তামিম বলেন, ‘স্কুল থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার উপায় নেই। রাস্তায় পানি আর গর্তের ভয়ে জুতা হাতে নিয়ে প্যান্ট উঁচু করে হাঁটতে হচ্ছে।’
মালিবাগের বাসিন্দা মো. নাইম অভিযোগ করেন, ‘আন্দোলনের পাশাপাশি বৃষ্টিতে রাস্তা পানিতে ভরে যায়। প্রতি বর্ষায় এই ভোগান্তি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক না হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি নেই।’
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক দাবিতে রাস্তা বন্ধ করা ঠিক নয়। এতে মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। আন্দোলনের ফলে উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সবাইকে মানুষের ভোগান্তি এড়ানোর জন্য কর্মসূচি গ্রহণে সতর্কতার আহ্বান জানাই।’