শুধু নির্বাচন করার জন্য আমরা দায়িত্ব নিইনি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্র্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং এ সময়সীমার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, উনি (প্রধান উপদেষ্টা) একটা সময় দিয়েছেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। একদিনও এদিক-সেদিক হওয়ার সুযোগ নেই। এ নিয়ে অন্য কথা বলারও সুযোগ থাকা উচিত নয়।’
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমাদের মিটিংয়ের পরে অনেকক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি। আমাদের তিনটি দায়িত্বের বিষয়ে। তিনটিই কঠিন দায়িত্ব। একটা হলো সংস্কার, আরেকটা বিচার, আর বাকিটা হলো নির্বাচন। শুধু নির্বাচন করার জন্য আমরা দায়িত্ব নিইনি।’ ড. ইউনূসের পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এখন কিছু গুরুদায়িত্ব আছে। আমি নির্বাচনের ব্যাপারেও বলছি, দায়িত্ব পালনের ব্যাপারেও বলছি। এসব পালনের সঙ্গেও তো মাসের (সময়ের) একটা সম্পর্ক থাকতে পারে! পদত্যাগের বিষয়টি আপনারা প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকেই শুনবেন।’
কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশার একটা চাপ আছে। আমরা ঠিকমতো পারফর্ম করতে পারছি কি না আমাদের বিবেচনায় ওটাই একমাত্র চাপ। এর বাইরে কোনো চাপ নেই। তবে কিছু সমস্যা আছে; ধরুন, আপনি এখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মিটিংয়ে যাবেন সচিবালয় থেকে যমুনা; কিন্তু যেতে পারবেন না, কারণ রাস্তা বন্ধ। এগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়।’
দায়িত্ব পালন করতে পারছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। রিফর্ম কমিশনগুলো তাদের রিপোর্ট দিয়েছে। সেগুলোর ওপর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব রাজনৈতিক দল সেখানে অংশ নিয়েছে। এটা কি পারা নয়? এটাকে পারাই বলতে হবে। আমরা নির্বাচনের সময়সীমা বলে দিয়েছি। ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে অবশ্যই নির্বাচন হবে। এটাও একটা পারা। আরেকটা হলো বিচার; ট্রাইব্যুনাল আগে একটা ছিল, এখন দুইটা। আগামীকাল ট্রায়ালের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। উপদেষ্টা জানান, ‘ঢাকার ৪টি নদীকে দূষণমুক্ত করতে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তুরাগ নদী দূষণমুক্তকরণ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এ চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হবে। এছাড়া, টাঙ্গাইলের মধুপুরে থাকা গারো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বন বিভাগের করা মামলা প্রত্যাহার করা হবে। গারোদের ভূমি জটিলতাও নিরসন করা হবে। ২৪ মে মধুপুরের সীমানা নির্ধারণের কাজ করা হবে বলেও জানান রিজওয়ানা হাসান।