বসুন্ধরার স্বপ্ন বাঁচালেন মোরসালিন

শিরোপার সমীকরণ আগেই মিলে গেছে। তিন রাউন্ড হাতে রেখে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতে নিয়েছে মোহামেডান। দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাদা-কালোরা পেয়েছে সোনালী ট্রফির স্বাদ। তবে ক্লাব কর্তাদের অবহেলায় সুবর্ণ সুযোগ হারাতে যাচ্ছে তারা। লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে মোহামেডানের খেলার কথা এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ। তবে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শর্ত ঠিকঠাক পূরণ করেনি মতিঝিল জায়ান্টরা। তাতে লিগের আকর্ষণ টিকে আছে কেবল আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের। এই দুই দলের আছে রানার্স-আপ হওয়ার সুযোগ। আর দ্বিতীয় হলেই মিলবে চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ।

এমন সমীকরণকে সামনে রেখে শনিবার ভিন্ন ভিন্ন মাঠে নেমেছিল দুই দল। তবে জয় পায়নি কেউই। কুমিল্লায় আবাহনী গোলশূন্য ড্র করেছে রহমতগঞ্জের সঙ্গে। আর নিজেদের মাঠ কিংস অ্যারেনায় ফর্টিসের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে বসুন্ধরা। সুবাদে রানার্স-আপের সমীকরণটা টিকে রইলো লিগের শেষ রাউন্ড অবধি। ময়মনসিংহে দিনের অপর ম্যাচে পুলিশ ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তলানীর চট্টগ্রাম আবাহনীকে।

মোহামেডান এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের ঠিক পরেই আবাহনী। ১৭ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৩২। বসুন্ধরা ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে আকাশীদের। শেষ রাউন্ডের হিসেবটা সহজ। ২৯ মে আবাহনী খেলবে ব্রাদার্সের বিপক্ষে। সেই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পেলেই তাদের পরিবর্তিত (শিরোপা লক্ষ্য জলাঞ্জলির পর নতুন লক্ষ্য রানার্স-আপ) লক্ষ্য পূরণ হবে। জিতলে তো কথাই নেই। তবে হেরে বসলেই বিপদ। বসুন্ধরা নিজেদের মাঠে সেদিন সামনে পাবে অবনমন নিশ্চিত হওয়া ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে। অনুমিত জয় পেলে এবং আবাহনী ব্রাদার্সের কাছে হারলে কিংসের সংগ্রহ হবে সমান ৩২। সেক্ষেত্রে তারা রানার্স-আপ হবে গোলের হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে থাকায়। গোল করা ও হজম করার হিসেবে আবাহনীর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে বসুন্ধরা।

অথচ শনিবারই রানার্স-আপ হতে পারতো আবাহনী। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে অসংখ্য গোলের সুযোগ নষ্ট করায় জয় পায়নি তারা। আবার ফর্টিসও আবাহনীকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারতো। কিংস অ্যারেনায় তারাই নিয়েছিল লিড। ৬৭ মিনিটে গাম্বিয়ান পা ওমর বাবুর ফ্রি-কিক মানব দেয়ালে বাধা পেলেও ফাঁকায় পেয়ে যান বদলী আব্দুল্লাহ। ডান পায়ের ভলিতে ফর্টিসকে এগিয়ে নেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। তবে ম্যাচ ও কিংস শিবিরে প্রাণ ফেরে ৭৯ মিনিটে শেখ মোরসালিনের লক্ষ্যভেদে। সোহেল রানা জুনিয়রের দারুণ সেট আপ আয়ত্বে নিয়ে ছোট ডি বক্সের একটু আগে থেকে বাঁ পায়ের প্লেসিংয়ে ফর্টিস গোলকিপারকে পরাস্ত করেন মোরসালিন।

যোগ করা সময়ে বড় বাচা বেচে যায় বসুন্ধরা। অতিরিক্ত সশয়ের ছয় মিনিটের শেষ মূহূর্তে অনেক দূর থেকে পা ওমর বাবুর বাঁকানো ফ্রি-কিক কিংস কিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হতে হয় ফর্টিসকে। তাতে আবাহনীর রানার্স-আপ হওয়ার অপেক্ষা বাড়ে।

এখন লিগের শেষ দিনেই জানা যাবে কার ভাগ্যে থাকছে এএফসি'র টুর্নামেন্ট।