আমার পৃথিবীর কেন্দ্রে আমার আম্মু

মাকে নিয়ে সবারই হয়তো কিছু না কিছু স্মৃতি থাকে, আমার কাছেও রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে একটি স্মৃতি আছে যেটা আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না।

কিছুদিন আগে রাজশাহী থেকে ঘুরে এলাম। এর মাঝেই আব্বু তার মার্কেটের মালিক সমিতি থেকে বনভোজনের দুটি টিকিট পেলেন। বললেন, ‘এইটা দিয়ে তুমি (আম্মু) আর তোমার মেয়ে ঘুরে আসো। ও (মানে আমি) তো সদ্য ঘুরে এসেছে।’ আমি কিছু বলিনি, কারণ আব্বুর যুক্তিটা ঠিক ছিল। কিন্তু আম্মুর মুখটা দেখেই বুঝেছিলাম, তিনি কিছু ভাবছেন। যেন তার মনের মধ্যে ছোটখাটো কোনো যুদ্ধ চলছে। রাতে খাবার টেবিলে একদম চুপচাপ ছিলেন। কথায় কথায় বলছিলেন, ‘তুই না থাকলে আমার ভালোই লাগবে না রে!’ কিন্তু তখনো বুঝিনি, কী প্ল্যান করতে যাচ্ছেন তিনি। বনভোজনের দিন সকালে ঘুম ভাঙল এক অদ্ভুত তাড়ায়। আম্মু দরজায় এসে বললেন, ‘জলদি রেডি হ! গাড়ি আর একটু পরেই ছেড়ে দেবে।’

আমি তো হতভম্ব, ‘কেন?’

উনি মুচকি হেসে বললেন, ‘তোর জন্য আমি একটা টিকিট কিনে রেখেছি। আমি তো তোকে ছাড়া কোথাও যেতে পারি না।’

আমার বুকটা হঠাৎ করেই ভরে উঠল। কিছু না বলে শুধু জড়িয়ে ধরেছিলাম তাকে। ভেতরে ভেতরে ভাবছিলাম, কতটা ভালোবাসলে কেউ চুপচাপ নিজের টাকা খরচ করে আমাকে পাশে রাখে কোনো ঘোষণা ছাড়াই। সে দিনটা ছিল অসাধারণ। আমরা একসঙ্গে গান গাইছিলাম, ছবি তুলছিলাম, হাসছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, আমার পাশেই আম্মু সবচেয়ে বেশি আনন্দ করছিলেন। যেন তিনি নিজেই ছোট হয়ে গেছেন। একটা ছবিও আছে সেদিনকার, যেখানে আমরা দুজন পাশাপাশি বসে আছি অসম্ভব সুন্দর লাগছিল আম্মুকে।

আম্মু সেই মানুষ, যার কাছে আমি সবসময়ই সবার আগে। সবাই যখন যুক্তি খোঁজে, তখন তিনি খোঁজেন অনুভব। আমি ঘুরে এসেছি এটাও ঠিক, কিন্তু তিনি জানতেন, আমি ঘুরলেও তার সঙ্গে ঘোরা মানে আমার কাছে অধিক আনন্দের।

এমন কত শত ছোট ছোট ভালোবাসার গল্প আছে, যেগুলো শব্দে বলা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়। আম্মুকে কখনো মুখ ফুটে বলা হয় না ‘ভালোবাসি আম্মু’। আজ আমি শুধু এটুকুই বলি, যে আমাকে কখনো দ্বিতীয় ভাবেনি, আমিও তাকে সবার আগে ভাবি। আমার পৃথিবীর কেন্দ্র আমার আম্মু।

লেখক : শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা কলেজ