দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেল ইঞ্জিন মেরামতের জেনারেল ওভারহোলিং কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল না থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের মেরামতে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্ধারিত সময়ের আগেই ২৩টি রেল ইঞ্জিন আউটটার্ন বা বড় ধরনের মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী দেড় মাসে আরও পাঁচটি রেল ইঞ্জিন মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই কারখানায় ২১টি রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের (জেনারেল ওভারহোলিং) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল।
জানা গেছে, রেল ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরিসহ ইঞ্জিন মেরামতের জন্য কারখানাটিতে মেকানিক্যাল (কারিগরি) সেকশনে মঞ্জুরিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বরাদ্দ রয়েছে ৫৫৯ জন। কিন্তু বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন ১৩৭ জন। স্বল্পসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কারখানাটির আউটটার্ন ধরে রাখতে হচ্ছে।
কারখানার সূত্র জানায়, একটি রেল ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া প্রতিটি রেল ইঞ্জিনকে জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য পার্বতীপুরে কেলোকায় পাঠানো হয়। পরে কারখানায় লোকোমোটিভ জিওএইচ করে কার্যক্ষম করে তোলা হয়। জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য প্রতিটি ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন ও অকেজো অংশ মেরামত করে সচল করা হয়।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় বাজেট ও স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়েই অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ২৩ রেল ইঞ্জিনের আউটটার্ন দেওয়া হয়েছে। বাজেট ও জনবল সংকট রয়েছে। তারপরও কাজের গতি থেমে নেই। কারখানাটি দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রেখেছে। তবে প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল পেলে প্রতি মাসে তিনটি আউটটার্ন দেওয়া সম্ভব হবে।’