নির্বাচনের রোডম্যাপ দিলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে

সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করলেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী কারও কোনো পদত্যাগ চায়নি। প্রয়োজন অনুভব করলে সে বিষয়ে জানানো হবে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের মাধ্যমে পুরো অস্থিরতা দূর হবে বলে আমরা আশাবাদী। বিএনপি তাদের মতামত দিয়েছে। আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আমাদের কথা গভীর মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। এবং তিনি বলেছেন যে, দেশ আমাদের সবার। তিনি দেশে একটি সুন্দর নির্বাচন দেখতে চান। তিনি যেনতেন নির্বাচন দেখতে চান না। সব দলের কথা শুনে তিনি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আমরা মনে করি।

এর আগে রাত ৯টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন যমুনায় বৈঠকে বসেন জামায়াতের আমির। তার সঙ্গে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জামায়াত আমির বলেন, আমরা শুধু নই, সবাই সংস্কারের পর নির্বাচন চায়। আমরা সময় বেঁধে দিইনি। সংস্কার শেষ হলে ফেব্রুয়ারির মধ্য কিংবা তা না হলে রোজার পরপরই হতে পারে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি প্রধান উপদেষ্টার জন্য কষ্টকর ছিল। আমরা মনে করি, দেশ আমাদের সবার। দেশ ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু যারা পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা কোনো দলের হবেন না। আমরা মনে করেছিলাম অর্থবহ কিছু সংস্কার ও হত্যার বিচার করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ সাড়ে ১৫ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত হয়েছেন। সরকার এ বছরের ডিসেম্বর বা আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন দিতে চায়। তবে সুনির্দিষ্টভাবে দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। এটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমাদেরও কিছু পরামর্শ ছিল। দেশের স্বার্থটা তিনি (ড. ইউনূস) দেখবেন বলে আমরা মনে করেছি।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা বৈঠকে বলেছি, যে সময় (নির্বাচনের) দিয়েছেন সেই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। তার আগে সংস্কার এবং বিচারের প্রক্রিয়া জনগণের সামনে আসতে হবে। যদিও সব সংস্কার এ সরকার করতে পারবে না। মাত্র ৫টি বিষয়ে তারা সংস্কারে হাত দিয়েছে। আমাদের ভিন্ন মত প্রকাশের অধিকার আছে। যেটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ঐক্যবদ্ধ সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি অর্থবহ নির্বাচন হবে। সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি।

এ ছাড়া কারও কোনো বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে সেনাবাহিনী যেন বিতর্কিত না হয়। সেনাবাহিনীকে বিতর্ক থেকে দূরে রাখা উচিত বলেও জানান জামায়াত আমির।