জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য বলেছি। সেই সময় শেখ হাসিনা একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল। ভোটের অধিকার হরণ করেছিল। রাতে ভোট হয়েছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডিসেম্বর থেকে জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় উনি (ড. ইউনূস) দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সে দায়িত্ব সম্পূর্ণ করেই তিনি যেন সিদ্ধান্ত নেন যেকোনো বিষয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করা হয়, সেই বিষয়ে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এখনো সব শহীদ পরিবার সঞ্চয়পত্র পায়নি। মাসিক ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। সে ভাতার কার্যক্রম শুরু হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সব প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা হয়।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনগুলোকে আদালতে নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা যাতে করা হয়।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হয়।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান। আমরা গণপরিষদ ও আইনসভা নির্বাচনের কথা বলেছি। এ তিনটি নিয়ে সমন্বিত একটি পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ যাতে সরকার একত্রে ঘোষণা করে। জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ আসতে পারে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে জুলাই সময়ের মধ্যে যে নির্বাচন হবে সেটিরও একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি।
বিচার সংস্কার ও নির্বাচনী রোডম্যাপ দাবি : অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রতি জুলাই ঘোষণাপত্রের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিচার, সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল রাজধানীর বাংলা মোটরে দলটির কেন্দ্রীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। এ ছাড়া এনসিপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন নাহিদ।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা উচিত। বিচার সংস্কার এবং নির্বাচনী রোডম্যাপ একত্রে ঘোষণা করা দরকার। সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটা সুষ্ঠু সমাধানে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে আলোচনা করতে হবে। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কথা ভেবে আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘অন্তর্র্বর্তী সরকারকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে যাওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশন আস্থার জায়গা হারিয়েছে বলে আমরা মনে করি। কাজেই নির্বাচন কমিশনকে আস্থাটা তৈরি করতে হবে অথবা দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে বলে আমরা মনে করি।’
ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘তারা (আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম) গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে সেই সময়ে সরকারে গিয়েছিলেন। আমিও তাদের সঙ্গে ছিলাম। তারা যদি রাজনীতি করতে চায়, নির্বাচন করতে চায়, তাহলে তারা সরকারে থেকে সেটা পারবে না। সরকার থেকে বের হয়ে তাদের নির্বাচন করতে হবে।’
সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের একটি তালিকা গত ২২ মে প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এই তালিকার বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যে তালিকা করা হয়েছে, সেটি যদি আরও আগেই, ৫ আগস্টের পরপরই প্রকাশ করা হতো, তাহলে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য আসত না। এ ছাড়া আমাদের রাজনীতির সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের ঘটনা এর আগে ঘটেছে। আমরা ওয়ান-ইলেভেনের মতো ঘটনা দেখেছি। এগুলো কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনেনি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ প্রমুখ।