অলি আহমদের বিবৃতি

বন্দরে আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনায় ভাঙবে ‘চাঁদা-চক্র’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চাঁদার নামে কোটি কোটি টাকা তুলে নেয় রাজনৈতিক নেতাদের একটি চক্র। এ চাঁদা দেওয়া প্রতিষ্ঠানেরা দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের খরচ তুলে নেয়। ফলে, স্বচ্ছ, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা এলেই এই ‘চাঁদা-চক্র’ ভেঙে যাবে। কাজেই তারা আতঙ্কিত। এটাই বাস্তবতা।’

গতকাল শনিবার নিজের গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অলি আহমদ এসব কথা বলেন।

অলি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি বন্দর নয় এটি বাংলাদেশের সম্ভাবনার পরীক্ষার ক্ষেত্র। গত পনেরো বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নামে যে পরিমাণ লুটপাট হয়েছে, তা আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে। প্রায় পৌনে তিন লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ লোপাট হয়েছে প্রকল্প বাজেট ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে, অসমাপ্ত কাজের বিল তুলে, রাজনৈতিক বিবেচনায় অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে, ঘুষ-কমিশনের বিনিময়ে বরাদ্দ বণ্টন করে। এর বাইরেও অপচয় হয়েছে আরও ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ সরকারের কয়েক বছরের বাজেটের সমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং দেশের প্রায় ৯২% আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে বন্দরের অব্যবস্থাপনা এবং পুরনো যন্ত্রপাতির কারণে কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। বন্দরটি ৩২.৭৬ লাখ টিইইউ (Twenty-Foot Equivalent Units) কনটেইনার এবং ১২৩.৯০ মিলিয়ন টন পণ্য হ্যান্ডেলিং করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় যথাক্রমে ৭.৪২% ও ৩.১১% বেড়েছে। এ ছাড়া, ২০২৪ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ৫০৫৫.৯৯ কোটি টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২১.৩৯% বেড়েছে।’

বিবৃতিতে কর্নেল অলি আহমদ উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি (চঈও) সৌদি আরব ভিত্তিক Red Sea Gateway Terminal (RSGT) নামক একটি টার্মিনাল অপারেটরের কাছে ২২ বছর মেয়াদে আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের বন্দর খাতে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ। চট্টগ্রাম বন্দরের New Mooring Container Terminal (NCT) এ বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার লক্ষ্যে UAE ভিত্তিক Dubai Port World (DPW) এর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এটি বন্দরের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

কর্নেল অলি আহমদ চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে সরকারের সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার প্রশংসার পাশাপাশি সতর্ক করে বলেন, ‘দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। বন্দর খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করলে দেশের ইমেজ বৃদ্ধি পাবে, কানেকটিভিটি বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটররা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটারাইজড সিস্টেমের মাধ্যমে বন্দর ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবে। চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে এটি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’