জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙ্গে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে কাস্টমস কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুদেশের মাঝে আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টে দুদেশের চলাচলসহ যাত্রীদের সকল সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
কাস্টমসের কর্মবিরতির কারণে রবিবার সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এর পর আবারো বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা ও আমদানিকারকরা। গতকাল শনিোরেও তাদের এই কর্মসূচির কারণে সকাল থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমদানি বন্ধ ছিল। পরে বন্দর দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আমদানি হয়। এসময় বন্দর দিয়ে ২২টি ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছিল।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকেই হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনে কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। কর্মকর্তা কর্মচারীরা অফিসে আসলেও তারা সকলেই তাদের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত আছেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে যার কারণে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোন কাজ করবেন তারা। এর পরে কাজে যোগ দেব সেই সাথে আমদানিকৃত পণ্য পরীক্ষণ শুল্কায়নসহ আউটপাশ ইস্যু করা হবে। তবে দাবী আদায় না হলে আগামীকাল থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, কাস্টমসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। যার কারণে বন্দর দিয়ে সকাল থেকে দুদেশের মাঝে আমদানি বন্ধ রয়েছে। বিকেল ৫টার পর তারা কাজে যোগ দিবেন সেই সময় থেকে আবারো বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হবে যা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলবে। গতকালকেও তাদের এই কর্মবিরতির কারণে বন্দর দিয়ে সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমদানি বন্ধ ছিল। কর্মবিরতি শেষে পরবর্তীতে বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়। এতে করে বিপাকে পড়েছেন বন্দরের আমদানিকারক ও সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ঈদুল আযহাকে ঘিরে জিরাসহ অন্য যেসব পণ্য আমদানি করছেন আমদানিকারকরা তারা সঠিক সময়ে এসব পণ্যের বাজারজাত করা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন।
ধারাবাহিকভাবে কাস্টমসের এমন আন্দোলনের কারণে ঈদুল আযহাকে ঘিরে চাহিদা থাকা পণ্য আমদানি করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। আমরা চাই দ্রুত এর সমাধান হোক কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করুক যাতে করে নির্বিঘ্নে দেশের বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারেন আমদানিকারকরা।