সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের হিড়িক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে সংরক্ষিত বনের জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। ইতিমধ্যে ওই বনভূমিতে অন্তত ১৫টি বসতঘর তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয় আরও অনেকে বনভূমি দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বন উজাড় করে বসতি স্থাপন করায় ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয় এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তির সংঘবদ্ধ চক্র ও বন বিভাগের যোগসাজশে বনের জায়গা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বনের জায়গায় নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণে সহায়তা করছে। এতে করে বন বিভাগের শত শত একর জমি বেদখল হচ্ছে। এসব বসতির আশপাশের বনের জায়গায় এখন আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায় দাঁতমারা ইউনিয়নের হাসনাবাদ রেঞ্জের সাপমারা, হাতিমারা ও তাঁরাখো এলাকায় গত কয়েক মাসে বন বিভাগের জায়গা দখলে নিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন স্থানীয় নুর আহমদ, করিম, জসিম, মানিক, কোরবান আলীসহ প্রায় ১৫টি পরিবার। স্থানীয়রা জানান, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আশপাশের অন্তত এক একর বনভূমি কৌশলে দখল করে ফেলেছেন।

বনের জমিতে অবৈধভাবে ঘর তৈরির কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় মানিক বলেন, ‘আমাদের আগে অনেকেই বনের জমিতে ঘর তৈরি করে পরিবার নিয়ে বাস করছেন। তাদের কেউ বাধা দেয়নি। তাই আমরাও বনের জমিতে ঘর তৈরি করছি।’

বন বিভাগের হাসনাবাদ বিট কর্মকর্তা শামিম রেজা সংরক্ষিত বনের জায়গায় অবৈধ বসতবাড়ি নির্মাণে বন বিভাগের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বদলি আদেশের অপেক্ষায় আছি।’

বন বিভাগের হাসনাবাদ রেঞ্জ কর্মকর্তা সিফাত আল রব্বানী বলেন, ‘আমি যোগদান করেছি দুই মাস হলো। এর আগে কি হয়েছে জানি না। বন বিভাগের জায়গা জবরদখল করে বাড়ি নির্মাণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব, বন বিভাগের জায়গা হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, বনের জায়গায় বসতবাড়ি নির্মাণে বন বিভাগের কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।