তিন রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে

দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে কর্মরত তিন রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুণগত উন্নয়ন এবং মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরকে কার্যকর ও গতিশীল করে গড়ে তুলতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ফেরত আনা হচ্ছে ডেনমার্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত একেএম শহীদুল করিম, মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূত মনোয়ার হোসেন ও উজবেকিস্তানে নিযুক্ত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে। তিনজনই প্রায় আট বছর ধরে বিদেশে কর্মরত রয়েছেন, যা প্রচলিত ছয় বছরের সময়সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মরত রাষ্ট্রদূতদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার নতুন সংস্কৃতি চালু করা হচ্ছে। আগে যারা রাষ্ট্রদূত পদে নিযুক্ত থাকতেন, তাদের দেশে ফেরানো হতো না। এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

সদর দপ্তরে অতিরিক্ত সচিবের ঘাটতি : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, সদর দপ্তরে পাঁচটি অতিরিক্ত সচিবের পদ রয়েছে। তবে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট বাদে বাকি চারটি পদই বর্তমানে ফাঁকা। ফেরত আনা কূটনীতিকদের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত সচিবের পদে দক্ষ কূটনীতিকদের নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানো যাবে।

নতুন পররাষ্ট্র সচিব আসছেন আসাদ আলম সিয়াম : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসাদ আলম সিয়ামকে নতুন পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসেই তিনি দায়িত্ব নেবেন। তার আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক রদবদল আসতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, শুধু রাষ্ট্রদূত নয়, বেশ কিছু কর্মকর্তাকে বিদেশ থেকে দেশে ফেরানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সদর দপ্তর থেকে নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন দূতাবাসে।

ওয়াশিংটনসহ চার দেশে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়া : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটনসহ আরও তিনটি দেশে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত দক্ষতা ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।