চট্টগ্রামের হালদা নদীতে সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। তবে নমুনা ডিমের পরিমাণ একেবারে নগণ্য। একজন ডিম সংগ্রহকারী ৮ থেকে ১২টি পর্যন্ত নমুনা ডিম পেয়েছেন।
গত এপ্রিল মাস থেকে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জো/ তিথি থেকে ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ, নদীতে ঢল না থাকা, পানি ঘোলাটে ও পরিবেশ শীতল না থাকায় মাছ ডিম ছাড়েনি। একই অবস্থা বজায় থাকায় চলতি মে মাসের পূর্ণিমার তিথিতেও মা মাছ ডিম ছাড়েনি। বর্তমানে জো চলমান থাকলে ও বজ্রসহ বর্ষণের তেমন প্রকোপ নেই। ফলে নদীতে ঢলও নেই। গরমে নদীর পানিতে শীতলতা নেই। পেট ভর্তি ডিম নিয়ে নদীতে ঘোরাঘুরি করছে মাছ।
বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে পানি ঘোলাটে রূপ ধারণ করে শীতল হলে মা মাছ ডিম ছেড়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি মাসের চলমান তিথিতে মাছ ডিম ছাড়তে পারে এই প্রত্যাশায় ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন।
গত সোমবার দিবাগত রাতে নমুনা ডিম ছাড়ার পর ডিম সংগ্রহকারীরা মঙ্গলবার সকালে জোয়ারের সময় ডিম ছাড়বে বলে আশা করেছিল। কিন্তু জোয়ারের সময় ডিম ছাড়েনি মাছ। সোমবার দিবাগত রাতে হালদা নদীর গড়দুয়ারা নয়াহাট, কাটাখালী, পশ্চিম গুজরা, আজিমারঘাট, নাপিতেরঘাট এলাকায় একেক জন ডিম সংগ্রহকারী ৮ থেকে ১২টা করে ডিম পেয়েছেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারী গড়দুয়ারার কামাল সওদাগর, মাছুয়াঘোনার মো. শফি, আবদুল কাদের, ও ইউনুস মুনসি।
তারা বলেন, এক শ্রেণির কৃত্রিম রেণু পোনা ব্যবসায়ী নমুনা ডিমকে হালদার রেণু বলে বিক্রি করে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এ ব্যাপারে রেণু ক্রেতাদের তারা সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। হালদা নদী থেকে সংগৃহীত ডিম থেকে রেণু ফোটানোর জন্য নদী পাড়ে স্থাপিত ৪টি সরকারি হ্যাচারি ও শতাধিক মাটির কুয়া প্রস্তত রয়েছে।
হালদা রিভার্স রিচার্স ল্যাবেটরির সমন্বয়ক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া সোমবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে হালদা নদীতে মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টি হলে, নদীতে ঢলের প্রকোপ দেখা দিলে মাছ ডিম ছাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, মাছের পেটে পর্যাপ্ত ডিম রয়েছে। পরিবেশ পেলে মাছ ডিম ছেড়ে দেবে। তবে নদীর পানির ঘোলাটে ভাব এখন ১০০ থেকে ১৫০। ডিম ছাড়ার জন্য প্রয়োজন ৬০০ থেকে ৭০০ ঘোলাটে ভাব।