কুকি-চিনের আরও সাড়ে ১১ হাজার ইউনিফর্ম জব্দ

চট্টগ্রাম নগরে সশস্ত্র জংগী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) আরও ১১ হাজার ৭৮৫টি ইউনিফর্ম জব্দ করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ মে) নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন নয়াহাট এলাকার একটি গুদাম থেকে এসব ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়।

তবে এ বিষয়ে নগর পুলিশের দায়িত্বশীল কোন সূত্র থেকে আজ রাত ৮টা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। খবরটি নিশ্চিত হতে নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মাহমুদা বেগমের মোবাইলে একাধিক কল করলেও তারা সাড়া দেননি। বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে এ বিষয় বলেন, " সোমবার রাতে নয়াহাট এলাকা থেকে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ইউনিফর্ম জব্দের বিষয়ে আমি অবগত নই।" 

তবে পুলিশের একটি  সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (২৬ মে) রাতে নয়াহাট এলাকায় একটি গুদাম থেকে ১১ হাজার ৭৮৫ পিস ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়।

গত ১৭ মে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একই এলাকার "রিংভো অ্যাপারেলস" নামে একটি পোশাক কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০টি কেএনএফ’র ইউনিফর্ম জব্দ করে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- সাহেদুল ইসলাম, গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দার। এর মধ্যে সাহেদুল ইসলাম কারখানার মালিক। অপর দুজন ইউনিফর্মগুলো তৈরির অর্ডার এনেছিলেন।

ইউনিফর্ম জব্দের ঘটনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ইকবাল হোসেন বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ কোটি টাকার চুক্তিতে ইউনিফর্মগুলো তৈরির অর্ডার নেওয়া হয়েছিল। গত মার্চে এ অর্ডার কারখানায় এনেছিলেন গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দার। তারা মংহলাসিন মারমা ওরফে মং নামে একজনের কাছ থেকে ২কোটি টাকার চুক্তিতে ইউনিফর্মগুলো তৈরির অর্ডার নেন। চলতি মে মাসে সেগুলো তাদের সরবরাহের কথা ছিল।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, "কুকি-চিন (কেএনএফ) পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলার একটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র জঙ্গি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। এর সদস্যরা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলার বিভিন্ন থানার এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করে। বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়, হত্যা, অপহরণ, গুমসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে। গ্রেপ্তার ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও যোগসাজসে বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করার প্রচেষ্টায় ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে রাষ্ট্রের সম্পত্তি বিনষ্ট, জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কাজ থেকে বিরত থাকিতে বাধ্য করে, সন্ত্রাসী কার্য সংগঠিত করে অবৈধভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।"