সিএসই কমোডিটি মার্কেট প্রবিধানমালা অনুমোদন

দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। গতকাল মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন সভায় ‘চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (কমোডিটি ডেরিভেটিভ) রেগুলেশন ২০২৫’ প্রবিধানমালা অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে স্বর্ণসহ কয়েক ধরনের পণ্য নিয়ে এই মার্কেট চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সিএসই।

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯৫৬তম কমিশন সভায় প্রবিধানমালাটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে পুঁজিবাজারে কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্যের লেনদেন শুরু হবে বলে আশা করছে কমিশন। সভায় পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বাজারের সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ও পাবলিক ইস্যু রুলসসহ ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। 

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্য লেনদেন শুরু হলে আশা করা যায় পুঁজিবাজারের বৈচিত্রায়নকে অধিকতর ত্বরান্বিত করবে। কমোডিটি মার্কেট অপারেশন চালুর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার ডেরিভেটিভ পণ্যের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে যা নিঃসন্দেহে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি অনন্য মাইলফলক।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ মার্চ দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হিসেবে নিবন্ধন সনদ লাভ করেছিল সিএসই। এর আগে ২০২১ সালের অক্টোবরে সিএসইকে কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছিল কমিশন। সর্বপ্রথম ২০০৭ সালে তখনকার সরকারের পক্ষ থেকে কমোডেটি এক্সচেঞ্জ চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর ১০ বছর পর ২০১৭ সালে এক্সচেঞ্জটি প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় সিএসই। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় হয়ে বিএসইসিতে আসে। পরে ২০২০ সালে বিএসইসির নতুন কমিশন গঠনের পর মার্কেটটি চালুর বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফুর রহমান মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের বহুল প্রত্যাশিত প্রবিধানমালা অনুমোদনের জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই। যে রেগুলেশন অনুমোদন হয়েছে, এটি কম্প্রিহেনসিভ রেগুলেশন (ব্যাপক)। একটি কমোডেটি মার্কের জন্য যেসব নিয়মকানুন দরকার তার সব এতে রয়েছে। এখন দেশের পুঁজিবাজার নতুন যুগে প্রবেশ করল। ইতিমধ্যে আমরা কমোডেটি মার্কের সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। প্রযুক্তিগত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন প্রবিধানমালার আলোকে আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগে দুটি ধাপ বাকি রয়েছে, সেগুলো শেষ করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে কমোডেটি মার্কেটের কার্যক্রম শুরু করতে পারব।

তিনি বলেন, এখন রেগুলেশন অনুযায়ী মার্কেটে কার কী কাজ, কে কীভাবে যুক্ত হবে, পণ্যের তালিকাভুক্তির বিষয় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। আশা করছি, ৬ মাসের মধ্যে আমরা পরীক্ষামূলক সব কার্যক্রম শেষ করতে পারব।

কমিশনের আরও ছয় সিদ্ধান্ত : পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বাজারের সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএসইসি কর্তৃক গঠিত ‘পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স’ কর্তৃক সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলসের চূড়ান্ত সুপারিশমালার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি দুটি সংস্কারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। ফলে মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং সর্বোপরি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। এই সংস্কারের ফলে আগামীতে ভালো ও মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত হবে এবং দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে কমিশন আশা করছে। এছাড়া সভায় সমন্বিত গ্রাহক হিসাব (সিসিএ) থেকে অর্জিত সুদ আয়ের ২৫ শতাংশ স্টক এক্সচেঞ্জের ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডে জমা দিয়ে বাকি অর্থ ব্রোকাররা ব্যবহার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

পাাশাপাশি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের ব্যবস্থাপনা খরচ ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ১৫০ টাকা করার নীতিগত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।