চার বছরের মেয়ে আয়েশাকে সঙ্গে করে জমিতে নিয়ে এসেছেন আলম দম্পতি। সম্প্রতি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার যমুনা নদীবিধৌত গ্রাম তেকানী চুকাইনগরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় দাম ও ফলন বেশি হওয়ায় এ ফসল চাষে ঝুঁকছেন জেলার চাষিরা, বেড়েছে চাষের জমিও। বছরে দুবার এ ফসল চাষ হয়ে থাকে। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নতমানের গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। ভালো ফলনের আশায় ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলার চাষিরা।
শস্যভান্ডারখ্যাত বগুড়ার প্রায় সব উপজেলায় এবার ভুট্টার আবাদ হয়েছে। চলতি বছরে জেলায় প্রায় দুই লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। ১৭ হাজার ৭২৪ হেক্টর জমি থেকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ টন। সে হিসেবে গতবারের তুলনায় এ বছর ২ হাজার ৩৮৩ হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন জেলার চাষিরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ কাঁচা ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. নাজমুল হক ম-ল বলেন, ‘আমাদের মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, যাতে চরের জমি অনাবাদি না থাকে। এ বছর প্রায় দুই লাখ টন ভুট্টা প্রায় ৫০০ কোটি টাকায় বিক্রি করবেন চাষিরা। ভুট্টা চাষে খরচ ও সময় কম লাগে। এতে করে একদিকে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হবে।’
জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় বগুড়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবে চাহিদা থাকায় বাজারে দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়। যমুনার চরাঞ্চলসহ জেলায় ভুট্টা চাষাবাদ হচ্ছে।
চুকাইনগর গ্রামের চাষি আলম জানান, প্রতি বিঘা ভুট্টা চাষে খরচ হয় ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ মণ। বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চর শনপচা, মথুরাপাড়া, তিতপরল এলাকার চাষিরা জানান, যমুনার বালুচরে ভালো ভুট্টার চাষ করা যায়। চরগুলোয় প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ মণ ফলন হয়, যা বাজারে বিক্রি করে ভালো লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। জেলার ধুনট উপজেলার কৃষকরাও জানিয়েছেন একই কথা।