বিএফআইইউর তথ্য

আ.লীগের শেষ ৫ বছরে ৪৯ হাজার লেনদেনে সন্দেহ

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদায় নেওয়া পতিত সরকারের শেষ ৫ বছরে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৪৯ হাজার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সরকারের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিএফআইইউর প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর,  নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউর উপপ্রধান মো. কাওছার মতিন, বাংলাদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান, পরিচালক মহুয়া মহসীন প্রমুখ।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পুরো আর্থিক খাতে সব থেকে বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। আলোচ্য বছরে লেনদেন হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৫টি, আগের অর্থবছর ২০২২-২০২৩ তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। অপরদিকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৪ গুণের বেশি। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৬৭৫টি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ১৪ হাজার ১০৬টি। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫৭১টি এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২৮০টি।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্র্বর্তী সরকার আর্থিক খাতের অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধানে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রতিবেদনে সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত অর্থবছর বিএফআইইউ ১১৪টি গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থায় পাঠিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে ১ হাজার ২২০টি তথ্য বিনিময় করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ জোরদারের কারণে ব্যাসেল এএমএল ইনডেক্স-২০২৪ র‌্যাংকিংয়ে ১৩ ধাপ এগিয়ে ৪৬ নম্বর থেকে ৫৯ নম্বরে উন্নীত হয়েছে।