বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের পদত্যাগের গুঞ্জন চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সেই গুঞ্জন এবার হালে পানি পেয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বাসভবনে তার সঙ্গে দেখা করেছেন ফারুক। সেই আলোচনায় বিসিবির শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনার বার্তা দিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। এদিকে সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিসিবির দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তখনকার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন দেশত্যাগ করেন। এমতাবস্থায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত দুই পরিচালক জালাল ইউনুস ও আহমেদ সাজ্জাদুল আলমকে সরিয়ে ফারুক আহমেদ এবং নাজমূল আবেদীন ফাহিমকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করে। পরে পরিচালকদের ভোটে বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন ফারুক।
শুরু থেকেই ফাহিমসহ বেশ কয়েকজন বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে তিনি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগও উঠেছে। বিসিবির টাকা অতি গোপনে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের বিষয়টি তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া বিপিএলে অনিয়ম, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়া, নিয়ম ভঙ্গ করে পছন্দের ব্যক্তিকে দল দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
এসব নিয়ে গণমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। ক্রিকেট সমর্থকরাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সব মিলিয়ে বিসিবিতে ফারুক যুগের অবসান হতে যাচ্ছে যে কোনো সময়। এদিকে বিসিবির যেকোনো দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। মাঝে একটা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, আমিনুলকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা করা হবে। তবে বুলবুল এটাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুলবুল বলেছেন, ‘আমাকে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে এখনো বলা হয়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে গতকালের সভায়ও আমি ছিলাম না। তবে ১০-১৫ দিন আগে আমার সঙ্গে উপদেষ্টার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তারা আমাকে কোনো একটা ভূমিকায় কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে চাচ্ছেন। আমিও তাতে রাজি হয়েছি।’
ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের খবরটি সামনে এলেও বিসিবি থেকে বিদায়ের বিষয়টি এখনও স্বীকার করেননি ফারুক আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘উপদেষ্টা কিন্তু আমাকে পদত্যাগ করতে বলেননি। শুধু বলেছেন, আমাকে আর তারা “কন্টিনিউ করাতে চান না।” এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। দেখা যাক, কী হয়।’