সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে জনগণের মতামত ও আকাক্সক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে বলে মনে করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি আরও বলেছেন, ঐকমত্য কমিশন কতগুলো মৌলিক সংস্কারের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপের এ টি এম শামছুল হক মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের উদ্যোগে ‘নাগরিক সনদ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরও আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আমরা আশা করি, জুলাইয়ের মধ্যে আমরা একটি নাগরিক সনদ প্রণয়ন করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা, ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করাই জাতীয় সনদের লক্ষ্য। আমরা জাতীয় সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করছি, যাতে নাগরিকরা রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়বদ্ধ করতে পারে।’
ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাক্সক্ষা হলো, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটানো। এজন্য নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের কার্যকর ও সোচ্চার ভূমিকা দরকার। নির্বাচন যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হতে পারে সেজন্য কতগুলো মৌলিক সংস্কারের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং অধ্যাদেশের মাধ্যমে কতগুলো আইন পাস হওয়া দরকার। দরকার রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কার আনয়ন।’ ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে আমরা আশাবাদী যে, রাজনৈতিক দলগুলো দুদক সংস্কার কমিশনের সব সুপারিশের ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।’ এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, সুজনের নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার প্রমুখ।