আজ ৩০ মে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিদ্রোহী সৈন্যের হাতে নিহত হন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ৪৫ বছর। এই স্মরণীয় দিন উপলক্ষে বিএনপি আট দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
বিগত ১৬ বছর ধরেই স্বাধীনতার ঘোষকের শাহাদাতবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে বিএনপি নানা বাধার সম্মুখীন হয়। তবে দলটির দীর্ঘ আন্দোলনের ফলস্বরূপ গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দল।
জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশপ্রেমে উদ্ভাসিত, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী এবং দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক। পেশাগতভাবে একজন সামরিক কর্মকর্তা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অতুলনীয় জনপ্রিয়। মাত্র ৬ বছর রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণের পরও মানুষের আস্থা তার প্রতি অপরিবর্তিত ছিল।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল এক বাণীতে বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষক, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন দ্বিধাগ্রস্ত, ঠিক সেই সময়ে মেজর জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী নেতার এই জনপ্রিয়তা দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্রকারীদের কখনোই গ্রহণযোগ্য ছিল না। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতে থাকে, যা ১৯৮১ সালের ৩০ মে তার নির্মম হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়।
জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মনসুর রহমান ছিলেন কলকাতার একজন সরকারি কেমিস্ট। শৈশব-কৈশোর গ্রামে কাটিয়ে তিনি পরে কলকাতা ও করাচিতে বাস করেন। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হয়ে ১৯৫৫ সালে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নেতৃত্ব দেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি চট্টগ্রাম
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং একটি সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার বীরত্বের জন্য তিনি পেয়েছেন বীর উত্তম খেতাব।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দায়িত্ব নেন রাষ্ট্র পরিচালনার। সামরিক অভ্যুত্থানের পর বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এরপর দেশের মানুষের জন্য স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সমন্বয়ের রাজনীতির মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করেন।
৬ বছরের শাসনামলে বিভক্তির রাজনীতি দূর করে ঐক্যের ডাক দেন। তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে মুক্তি দিয়ে শক্ত হাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বিএনপি এই দিনটি স্মরণে গতকাল রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে। আজ শুক্রবার নয়াপল্টন, গুলশান ও সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। পাশাপাশি মসজিদে মসজিদে গণদোয়া এবং দরিদ্রদের মধ্যে চাল-ডাল ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।
বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো শহীদ জিয়াকে নিয়ে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করেছে এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে দুস্থদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। জেলা ও উপজেলা, থানা ও পৌর ইউনিটগুলো আলোচনা সভা ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করবে।