প্রায় ২১ দিন আগে ডিমের দাম বেড়েছিল, যা এখনও পূর্বের মতোই রয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি ডিম ডজনপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ডিমের দাম আরও কিছুটা বেশি ছিল। তবে তিন দিন আগে ডজনপ্রতি পাঁচ টাকা কমে বর্তমান মূল্যে স্থিত হয়েছে। এই দাম এখনও অতীতের তুলনায় বেশি। গত মাসের চেয়ে বর্তমানে ডিম ডজনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা দামি হয়ে উঠেছে।
গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল মার্কেট এবং কারওয়ান বাজার পরিদর্শন করে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম দেখা গেছে।
ডিমের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মতে, বর্তমানে বাজারে সবজির দাম শীতকালীন সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। এ কারণে ডিমের চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে ডিমের মূল্য এখনও তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি
যদিও ডিমের দাম বেশি, তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৩০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লারের দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির দাম ২০ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
স্থিতিশীল সবজির বাজার, শুধু টমেটো-পেঁপে কিছুটা চড়া
বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম সাধারণত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে টমেটো ও পেঁপের দাম কিছুটা বেড়েছে। গতকাল পটোল, ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও লাউ কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকায়; বরবটি, কাঁকরোল ও বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, টমেটো কেজি ৭০–৮০ টাকা এবং পেঁপে ৫০–৬০ টাকায় পাওয়া গেছে। সজনে ছাড়া প্রায় সব সবজিই ১০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে।
তবে নিম্নচাপের প্রভাবে গতকাল সকাল থেকে ঢাকায় টানা বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক-দুই দিনও একই ধরনের পরিস্থিতি থাকতে পারে। এ অবস্থায় কিছু পণ্যের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা দাম বাড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত
মাছ ও মাংসের বাজার আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। বৃহস্পতিবার পাবদা মাছ কেজিপ্রতি ৪০০–৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০–২২০ টাকা, পাঙাশ ১৮০–২০০ টাকা, রুই ৩০০–৩৫০ টাকা এবং কই ২৫০–২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গরুর মাংস কেজি ৭০০–৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১০০০–১১০০ টাকায় পাওয়া গেছে।
চালের বাজারে স্থিতিশীলতা
চালের বাজারেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বোরো মৌসুমের নতুন চাল বাজারে আসায় দাম কিছুটা কমেছে। খুচরা পর্যায়ে মিনিকেট চালের কেজি এখন ৭৫ টাকার কাছাকাছি, যা গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত।
বাজারে ডায়মন্ড, মঞ্জুর, সাগর প্রভৃতি ব্র্যান্ডের নতুন মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৭৫ টাকায় এবং রসিদ মিনিকেট চাল ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে পুরানো মিনিকেট চালের কেজি ৮৫ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া নাজিরশাইল চাল ৮০ থেকে ৯৫ টাকা, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চাল ৫৮ টাকা এবং স্বর্ণা চাল ৫৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যান্য পণ্যের দাম
পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০–৫৫ টাকা, আলু ২০–২৫ টাকা, দেশি রসুন ১২০–১৪০ টাকা এবং আমদানিকৃত রসুন ২২০–২৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
স্থলভাগে নিম্নচাপ, ৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
আমাকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করা হয়েছে, তা এরই মধ্যে আইসিসিকে জানিয়েছি: ফারুক
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ৬৭ জন নিহত