কমলগঞ্জ 

স্কুলশিক্ষিকা হত্যায় অভিযুক্ত যুবক পলাতক, এলাকাজুড়ে ক্ষোভ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকা রোজিনা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পাঁচ দিনেও ঘাতক রেজাউল করিম সাগরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা প্রধান এ আসামি পলাতক থাকায় ও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভও করেছেন।

গত ২৬ মে দুপুরে উপজেলার ভাষানীগাঁও এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কৃষিজমির মাটি কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নবদূত পাঠশালা নামের কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা রোজিনা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জালাল মিয়া, হারুন মিয়া, নুরুন নাহার লুবনাসহ আরও কয়েকজন হামলার শিকার হন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহত রোজিনার ভাই শাহজাহান আহমদ বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক ৩ জন এবং পরে একজনকে গ্রেপ্তার করলেও প্রধান আসামি সাগর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত রোজিনা বেগম ছিলেন প্রয়াত নিজাম উদ্দীনের কনিষ্ঠ কন্যা এবং একটি স্বনামধন্য স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান। তিনি এলাকার একজন জনপ্রিয় ও মানবিক ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত। রোজিনার ১১ বছর বয়সী এক সন্তান এখন এতিম অসহায়।

ভাষানীগাঁও জামে মসজিদের ইমাম খায়রুল ইসলাম, শিক্ষক মোশাহিদ আহমদ, সমাজকর্মী মামুনুর রশীদ, আইনজীবী কামরুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, রেজাউল করিম সাগর ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক সাগর পলাতক।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আকনজি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা তাৎক্ষণিক ৩ জনকে এবং গত বধবার রাতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলার প্রধান আসামি পলাতক সাগরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।