দেখতে দেখতে ২০২৫ সালের পাঁচটি মাস শেষ হয়ে গেল। বছরের প্রায় অর্ধেক শেষ হওয়ার পথে। এবার সময় বছরের প্রথমে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ঠিকভাবে মেনে চলতে পারছেন কি না তা যাচাই করার। না পারলে শুরু করতে হবে আবার। লিখেছেন লিজা হক
আত্মসমালোচনা
প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে আমরা সারা বছরের জন্য কর্মপন্থা নির্ধারণ করি, লক্ষ্য নির্ধারণ করি। খুব উৎসাহের সঙ্গে রুটিন বানাই। প্রথম কয়েক দিন সেই রুটিন অনুযায়ী চলার সৎ চেষ্টাও দেখা যায় আমাদের মধ্যে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই একে একে ঝরে পড়ে রুটিনের কাজগুলো। ফলে করণীয় কাজগুলো দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাস হয়ে উঠতে পারে না। আর তাই জীবনও পরিবর্তিত হয় না আমাদের। বছর ঘোরে অক্টোবর-নভেম্বর মাসের দিকে টনক নড়ে। শেষ পর্যন্ত আরেকটি বছরও হারিয়ে গেল জীবন থেকে। সেই অনুশোচনা থেকেই নতুন বছরের জন্য নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণের তোড়জোড় চলে। এই দুষ্ট চক্র থেকে মুক্তি পেতে তাই প্রয়োজন আত্মসমালোচনা। সেটি যত দ্রুত হয় তত ভালো। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেশ কিছুদিন ছুটি পাওয়া গেছে। অবসরের এই দিনগুলো হতে পারে আত্মসমালোচনা ও ২০২৫-এর লক্ষ্যগুলোর দিকে ফিরে দেখার উপযুক্ত সময়। তাই বছরের প্রথমে করা রুটিনটি নিয়ে বসুন। রুটিনের শতকরা কত ভাগ কাজ আপনি বছরের পঞ্চম মাস মে-তেও করতে পারছেন তা বের করুন। যেগুলো পারছেন না তা কেন পারছেন না তার কারণ খুঁজে বের করুন। হতে পারে, আপনি নিজের ওপর অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হতে পারে, আপনি সময় সমন্বয় না করে এই রুটিনটি তৈরি করেছিলেন তাই একই সময়ে দুটি কাজ পড়ে যাচ্ছে। কারণ যাই হোক, সমাধান খুঁজে বের করুন। সময়ের থেকে কাজের পরিমাণ বেশি হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ নির্ধারণ করুন। এভাবে বাস্তবসম্মত একটি রুটিন তৈরি করে সেটি আবার মেনে চলার অনুশীলন শুরু করুন।
শুরু করুন নতুন করে
করছি করব করে যদি আপনি এখন রুটিন ও লক্ষ্য নির্ধারণ না করে থাকেন তাহলে আর দেরি না করে শুরু করতে পারেন এখনই। একটি বছর সম্পূর্ণ নষ্ট না করতে চাইলে কত সময় চলে গেছে তা না ভেবে নতুন করে শুরু করতে পারেন। এতে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবেন অনেকটুকু। ছোট ছোট এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন যেগুলো আপনাকে দৈনন্দিন জীবনে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে সাহায্য করবে জীবন বদলে।
পরিকল্পিত সকাল : দিনটি শুরু করুন পরিকল্পিতভাবে। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম পাঁচ মিনিট ব্যয় করুন এই কাজে। স্মার্টফোন হাতে নেবেন না। নিউজফিড স্ক্রল করবেন না। সারা দিনে কী কী করবেন তা ঠিক করে নিন। পানি পান করুন। হাল্কা শরীরচর্চা করুন।
অন্যমনস্ক হয়ে খাবেন না : অনেকেই স্মার্টফোন স্ক্রল করতে করতে খাবার খান। ফলে পরিপূর্ণ তৃপ্ত লাভ করতে পারেন না। অতিগ্রহণ বা অল্পগ্রহণ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে শরীর, মন ও কাজে। মনোযোগের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করলে হজমও হয় ভালোভাবে।
ইতিবাচক হন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন : ইতিবাচকতা মানুষকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে নমনীয়তা শেখায়, যা চলার পথকে মসৃণ করে। তাই
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন এবং ইতিবাচক হন। প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার আগে কমপক্ষে তিনটি জিনিস লিখুন, যার জন্য আপনি জীবনের কাছে কৃতজ্ঞ। সপ্তাহে কমপক্ষে একজনকে ফোন করে কুশল বিনিময় করুন তার সহযোগিতার কথা স্মরণ করুন।
শেখার শেষ নেই : মনের মধ্যে একটি বিষয় গেঁথে নিন। আমৃত্য শেখার সময়। চারপাশের প্রতিটি মানুষের কাছ থেকেই কিছু না কিছু শিখতে পারবেন। প্রতিদিন কমপক্ষে দশ পৃষ্ঠা আত্মোন্নয়নমূলক বই পড়ুন। অনুপ্রেরণাদায়ী ভিডিও দেখুন, পডকাস্ট শুনুন।
কাজের ফাঁকে বিরতি নিন : একটানা কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে বিরতি নিন। একটানা ৫০ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিট বিরতি নিন। বিরতিতে জানালার পাশের দাঁড়ান, ব্যালকনিতে যান, মুক্ত বায়ুতে শ্বাস নিন। কাজের কথা ভাববেন না। কিন্তু এ সময় যেন ৫ মিনিটের সীমারেখা অতিক্রম না করে।
গ্যাজেট থেকে দূরে থাকুন এক দিন : সপ্তাহে কমপক্ষে এক দিন গ্যাজেট থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। সেদিন ফোন ব্যবহার করবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করবেন না। সেদিনটি সবুজ পরিবেশের, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চেষ্টা করুন। বই পড়ুন, রান্না করুন, ঘুরতে যান।
মনোযোগ ধরে রাখার অনুশীলন : একটানা কতক্ষণ কাজ করতে পারেন তা পরীক্ষা করুন। চেষ্টা করুন কীভাবে এই সময় বাড়ানো যায়। যেসব কাজ বা বস্তুর জন্য মনোযোগ ব্যাহত হয় সেগুলো দূরে সরিয়ে রাখুন। যত বেশি সময় আপনি মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন তত আপনি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন।
পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি : ঘুম হলো শরীরের বিশ্রামের সময়। পরিমিত ঘুমালেই কেবল পরদিন সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করতে পারবেন। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে যথাসময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।