বৈষম্যবিরোধী নেত্রীর ওপর হামলা, মহাসড়ক অবরোধ

ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব বৈশাখী ইসলাম বর্ষার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নগরকান্দা উপজেলার ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভবুকদিয়া এলাকায় দেড় ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং রাত ৯টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

এ ঘটনার পর গতকাল শনিবার দুপুরে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. শামসুল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসনিক কারণে ওসি সফর আলীকে নগরকান্দা থানা থেকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী বৈশাখী ইসলাম বর্ষার ছোট বোনকে কয়েকদিন ধরে শরীফ শেখ নামের এক যুবক উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ ঘটনায় বর্ষা বিচার চেয়ে বিএনপি নেতা বদিউজ্জামান মোল্লা এবং স্থানীয় মাতব্বরদের জানান। কিন্তু বিচার না পেয়ে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরে নগরকান্দা থানায় গিয়ে সব ঘটনা বর্ণনা করেন বর্ষা। এ ঘটনার পর শুক্রবার বিকালে বিএনপি নেতা বদিউজ্জামান ও তার লোকজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী বর্ষার ওপর হামলা চালায়। পরে বর্ষা ফেসবুক লাইভে এসে হামলার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। সন্ধ্যার পর নগরকান্দা থানা পুলিশ উপজেলার ভবুকদিয়া এলাকায় গিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে। পরে গাড়িতে উঠিয়ে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। খবর পেয়ে ফরিদপুর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ভবুকদিয়া এলাকায় গিয়ে পৌঁছালে দ্বিতীয় দফায় গ্রামবাসীর সঙ্গে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয়রা সরে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক আবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে উপজেলা প্রশাসন, নগরকান্দা থানার অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, আরিফ হোসেন, আজিজুল সেখ, শরিফ সেক, সজিব সেখ এবং সাজ্জাদ সেখ। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানায় পুলিশ।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্ত বদিউজ্জামান মোল্লা জানান, ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল বলেন, ‘বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্ত সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে।’