কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর-হোমনা সড়কের গৌরীপুর অংশে প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। এতে এই সড়কে চলাচলকারী হোমনা, তিতাস, মেঘনা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যানজটে বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতা ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
জানা গেছে, সড়কটির বাজারের অংশে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ, ফুটপাত দখল করে দোকান বসায়, অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাই যেখানে সেখানে পার্কিং করায় প্রতিদিনই বাজারে যানজট লেগে রয়েছে।
বাজারের যমুনা ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী সোহেল প্রধান বলেন, যানজটের কারণে দিন দিন আমাদের বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমছে। বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। স্থায়ীভাবে যানজট নিরসনে পদক্ষেপ না নিলে আমরা ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ব্যবসায়ী জানান, সামনে ঈদ, ঈদের আগে এমন বড় ধরনের যানজট হলে এখানকার চেয়ারম্যান বাজার কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করতে দেখেছি, এখন কাউকে দেখছি না। মনে হচ্ছে বাজারটি এখন অভিভাবকহীন!
সমাজকর্মী এখলাস মুন্সি জানান, বাজারের যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, একদিকে আমাদের লোকবল কম, আবার বাজার কমিটিরও কোনও তৎপরতা নেই। যদিও অন্যান্য দিন কম হয়, আজ সাপ্তাহিক হাটের দিন হওয়ায় এ যানজট হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, বাজারসহ সড়ক মহাসড়কে যানজট নিরসনের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। গৌরীপুরের কাঠ বাজারটির লোড আনলোড করতে গিয়ে মূলত যানজটের সৃষ্টি হয়। যেহেতু বাজার কমিটি সচল নেই, তাই ইজারদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অচীরেই গৌরীপুর বাজারের যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।