বাংলাদেশি ঐতিহ্যে মাতল প্যারিস

বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক রিপাবলিক চত্বর। ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন সলিডারিটে আজি ফ্রান্সের আয়োজনে ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশি বাণিজ্য মেলা ও ঈদ বাজার।

রবিবার দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবে উপস্থিত ছিল প্রায় ৬৫টিরও বেশি স্টল ও হাজারো দর্শনার্থী। মেলার উদ্বোধন করেন সাফের প্রেসিডেন্ট খিয়াং নয়ন (নয়ন এন কে)। শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জানান, এই আয়োজন শুধুমাত্র বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়ার আন্তরিক প্রয়াস।

মেলার প্রধান অতিথি  ছিলেন ফ্রান্সের জাতীয় সংসদের এমপি অরেলিয়ান তাশে। তিনি ‘ভাল দোয়াজ’ (১০ নম্বর আসন) এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার সঙ্গে ছিলেন প্যারিসের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনজুমানে সিসোকো।

অতিথিরা স্টল ঘুরে দেখেন, মেলায় সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ) এবং স্বরলিপি সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ কমিউনিটি ব্যক্তিরা অংশ নেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

অতিথিরা মেলায় স্টল পরিদর্শনের সঙ্গে বাঙালিয়ানা খাবারের স্বাদ নেন এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে অভিভূত হন। মেলায় দেখা যায়, আম-কাঁঠাল, লিচু, শসা, তাল ও নানা স্বাদের আচারের বাহার। চটপটি, ফুচকা, লাল চা, ছোলা-মুড়ি, ঝালমুড়িসহ মুখরোচক খাবারের স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। পোশাকের স্টলে পাওয়া যায় পাঞ্জাবি-পাজামা, বাহারি থ্রি-পিস, ফতুয়া, জার্সি ও শিশুদের পোশাক। ছিল বোরকা ও হিজাবের নান্দনিক প্রদর্শনী, যা প্রবাসী নারীদের উদ্যোক্তা-সত্তার দৃপ্ত প্রতিচ্ছবি।

মেলায় ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও আনন্দ আয়োজন—শিশুদের জন্য ‘বিস্কুট খেলা’ ও ‘যেমন খুশি তেমন সাজ’, আর বড়দের জন্য ‘চামচে মার্বেল রেখে দৌড়’ এবং কুইজ প্রতিযোগিতা।দর্শনার্থী আব্দু রহমান, যিনি প্রায় ৮ বছর ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছেন, বলেন, “সুদূর প্রবাসে এত বাঙালির সঙ্গে একত্রে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারাটা এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। এটা যেন সাময়িকভাবে দেশের মাটিতে ঈদের আগমুহূর্তে ফিরে যাওয়া।

জাইমা এক শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী। জানান, এমন আয়োজনে এসে প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ হয়। ব্যস্ত প্রবাসজীবনে এমন আয়োজন আমাদের প্রাণচাঞ্চল্য এনে দেয়।